কুমিল্লা সংবাদদাতা:
জেলা কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবিরাজের কাছে ছোট বোনের ‘জিন ছাড়াতে’ গিয়ে
বড় বোন (১৯) ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর মা সোমবার
(২০ অক্টোবর) বিকেলে দেবীদ্বার থানায়েি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত কবিরাজের কুদ্দুস
মিয়া (৪৫)উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন সকালে বড় বোন তার ছোট বোনকে নিয়ে
কুদ্দুস কবিরাজের বাড়িতে যান। চিকিৎসার এক পর্যায়ে কুদ্দুস কৌশলে বড় বোনকে নিজের বসতঘরের
একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, ধর্ষণের বিষয়টি কুদ্দুস ভিডিও ধারণ করেন এবং ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায়
দেড় লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক
স্থাপন করেন।
কয়েকদিন আগে কুদ্দুস মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে গৃহবধূ অস্বীকৃতি জানান।
ক্ষিপ্ত হয়ে সে ভুক্তভোগীর স্বামী, শ্বশুরবাড়ির
লোকজন ও স্থানীয়দের কাছে ভিডিও ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ধর্ষীতা বলেন, “আমি আমার ছোট বোনকে ‘জিন ছাড়াতে’ নিয়ে যাই কবিরাজ কুদ্দুসের
কাছে। চিকিৎসা শুরুর আগে সে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়।
পরে আমাকে একা একটি কক্ষে নিয়ে জোর করে ধর্ষণ করে এবং ভিডিও ধারণ করে। এরপর সেই ভিডিও
দেখিয়ে টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা এনে দিলেও সে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এমনকি আমার ভাইকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে আরো তিন লাখ টাকা
নেয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত আমার স্বামীর বাড়ির
লোকদের কাছে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগীর মা জানান, কবিরাজের ফাঁদে পড়ে আমার মেয়ের সংসার ভেঙে গেছে।
আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
অভিযোগ অস্বীকার করে কবিরাজ কুদ্দুস বলেন, ‘তাদের এক মেয়ে অসুস্থ ছিল,
আমার কাছে চিকিৎসা করিয়েছিল। কিন্তু দুই মাস আগে তারা এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে আসে, তখন
আমি কক্সবাজারে ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ
সম্পূর্ণ মিথ্যা।
দেবীদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ
পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যববস্থা নেওয়া হবে।