সৌদি পাঠানোর নামে প্রতারণা: বাউফলে ১৫–২০ জনের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ!
অক্টোবর ০৯, ২০২৬, ৯:২৫ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৯, ২০২৬, ৯:২৫ এ.এম
সৌদি পাঠানোর নামে প্রতারণা: বাউফলে ১৫–২০ জনের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ!
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে সৌদি আরবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. মিজান হাওলাদার ও তাঁর সহযোগী মেরিনা আক্তারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের প্রলোভনে পড়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন প্রবাসী ও তাঁদের পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম।
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্রের বরাতে জানা যায়, বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইউনুছ মাস্টারের ছেলে মিজান হাওলাদার (৩৫) এবং তাঁর সহযোগী মেরিনা আক্তারের (৩০) বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন মনিরুল ইসলাম (২৪)।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে সৌদি আরবে ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মনিরুলের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ আকামা ছাড়াই তাঁকে ভিসা দিয়ে সৌদি আরবে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে গিয়ে প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়া এবং বৈধ কাগজপত্রের সংকটে পড়েন মনিরুল। প্রায় দুই মাস দুর্ভোগের পর নিজের খরচে দেশে ফিরতে বাধ্য হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরুলের অভিযোগ, দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে বারবার সময় দিয়েও তা পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে যান এবং তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ রাখেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযুক্তদের ভাড়া বাসার সামনে পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে বাক্বিতণ্ডা হয়। এ সময় টাকা ফেরত দেওয়া হবে না জানিয়ে তাঁকে হত্যাসহ গুরুতর ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরুল। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সৌদি আরবে ভালো বেতনের চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সৌদি আরবে আকামা ও কাজের সংকটে রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও পাসপোর্ট আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিজান নিজেকে সৌদি আরবের সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দেশে মাসে কয়েক লাখ টাকা আয়ের কথা বলতেন। এসব কথা বিশ্বাস করে বেকার যুবকেরা বিদেশে যাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজান হাওলাদার। তাঁর দাবি, তিনি কাউকে বিদেশে পাঠাননি এবং বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তদন্ত ও অর্থ ফেরতের দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, পাওনা টাকা ফেরত এবং আটকে রাখা পাসপোর্ট উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম সিরাজ জানান, এরকম কোন ঘটনা আমার জানা নেই। যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more