প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ৬:৪৭ এ.এম
তিন দশক পর ইউরোপের আকাশে বিরল মহাজাগতিক দ্যুতি
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মহাবিশ্বের অপার বিস্ময় ও অলৌকিক সৌন্দর্য আবারও প্রত্যক্ষ করল বিশ্ববাসী। প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ বিরতি শেষে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি মানুষ এক অভূতপূর্ব মহাজাগতিক নাটকের সরাসরি সাক্ষী হয়েছেন। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবীর বিরল জ্যামিতিক অবস্থানের কারণে বুধবার আকাশে নেমে আসে এক মোহনীয় গোধূলির ছায়া। উত্তর সাইবেরিয়ার দুর্গম ও জনমানবহীন মেরু অঞ্চল থেকে শুরু হওয়া এই ছায়ার যাত্রা মুহূর্তের মধ্যেই উত্তর মহাসাগর পার হয়ে আছড়ে পড়ে আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপের বুকে। মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এই ক্ষণটি হয়ে উঠেছিল শতাব্দীর অন্যতম আবেগঘন ও রোমাঞ্চকর এক স্মৃতি, যা আবার প্রমাণ করল প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে মানুষ কতটা বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
গ্রহণের তীব্রতা ও রূপ মহাদেশটির ভৌগোলিক অবস্থানভেদে ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপহার দিয়েছে। স্পেনের কিছু অঞ্চল, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের আকাশে চাঁদ যখন সূর্যের ঠিক মাঝখানে এসে দাঁড়ায়, তখন মুহূর্তের জন্য নিখুঁত সরলরেখায় বন্দি হয় এই তিন জ্যোতিষ্ক। ফলে সেসব এলাকায় দিনের মধ্যভাগেই হঠাৎ নেমে আসে মধ্যরাতের মতো গাঢ় ও নিশ্চুপ অন্ধকার। প্রকৃতির স্বাভাবিক ছন্দ থমকে গিয়ে এক মায়াবী গোধূলির পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে উন্মোচিত হয় সূর্যের বায়ুমণ্ডলের আভা তথা বহুল প্রতীক্ষিত 'করোনা' এবং পৃষ্ঠ থেকে বিচ্ছুরিত গোলাপি রূপালি গ্যাসের অগ্নিশিখা। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের আকাশে চাঁদ ও সূর্য সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ না হলেও দেশটির বাসিন্দারা এক নজরকাড়া আংশিক গ্রহণের রূপ দেখতে পান। বিশেষ করে সন্ধ্যার শুরুতে সূর্যের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি অংশ চাঁদের অবয়বে ঢাকা পড়ে গেলে পুরো যুক্তরাজ্যজুড়ে আলো কমে গিয়ে এক রহস্যময় আবহ তৈরি হয়, যা ১৯৯৯ সালের পর ওই অঞ্চলে ছিল সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সূর্যগ্রহণ।
এই বিরল মুহূর্তটি উদযাপনে ইউরোপজুড়ে হাজার হাজার পর্যবেক্ষক, বিজ্ঞানী ও দর্শনার্থীদের যেন এক মহাসমাবেশ ঘটেছিল। তবে এই উত্তেজনার মাঝে শেষ মুহূর্তে তৈরি হয়েছিল একটি চমকপ্রদ সংকট—সুরক্ষামূলক বিশেষ সূর্যগ্রহণ চশমার তীব্র অভাব। চাহিদা এতটাই তুঙ্গে পৌঁছায় যে চোখের নিরাপত্তায় ব্যবহৃত এই চশমাগুলো শহরের সুপারশপ, হার্ডওয়্যার দোকান থেকে শুরু করে স্থানীয় রুটির দোকান বা বেকারি থেকেও নিমিষে নিঃশেষ হয়ে যায়। তবে সাধারণ মানুষের অদম্য আগ্রহ তাতে ভাটা ফেলতে পারেনি; বিশেষ চশমা না পেয়েও তারা নিজস্ব উদ্ভাবনী উপায়ে আনন্দ উদযাপনে মেতে ওঠেন। রান্নাঘরের প্লাস্টিকের ঝাঁঝরি, কর্নফ্লেক্সের খালি কাগজের বাক্স ও পিনহোল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখুঁত প্রতিফলনে সূর্য ঢেকে যাওয়ার অদ্ভুত প্রতিচ্ছবি উপভোগ করেন উৎসুক মানুষ। ইউরোপের আকাশে আলোর এই রূপান্তর যেন এক লাইটের আলো কমিয়ে দেওয়ার সুইচের মতো কাজ করছিল, আর প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে বাঁধভাঙা উল্লাস ও হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পুরো অঞ্চল।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more