আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মাদকের বিস্তারে জামায়াতের চরম উদ্বেগ
অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৪:২০ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬, ৪:২০ এ.এম
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মাদকের বিস্তারে জামায়াতের চরম উদ্বেগ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমঅবনতি, লাগামহীন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং মাদকের ভয়াবহ বিস্তারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সমাজ সচেতন ব্যক্তিদের মতে, অপরাধের এই তীব্র ঊর্ধ্বগতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই দেশ ও জাতির সার্বিক অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়বে।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দেওয়ানবাজার এলাকার বিআইএ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মী সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা তুলে ধরেন। উক্ত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট ও কঠোর বক্তব্য পেশ করেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে পুরো দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চারদিকে সন্ত্রাস ও প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির কারণে আমজনতার সাধারণ জীবনযাত্রা একপ্রকার স্থবির ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। মানুষ নিজেদের জানমালের ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও পাচ্ছে না। এর পাশাপাশি সমাজজুড়ে তৈরি হওয়া অপহরণের আতঙ্ক ও মাদকের কড়াল থাবা বিশেষ করে আমাদের সম্ভাবনাময় উদীয়মান তরুণ সমাজ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের চরম সুড়ঙ্গে ঠেলে দিচ্ছে।"
তিনি বর্তমান শাসকশ্রেণি ও প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরো বলেন, "যদি অনতিবিলম্বে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, দখলবাজি ও নৈরাজ্য দমনে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে সরকার তার মৌলিক দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হিসেবে পরিগণিত হবে। এ ধরনের চরম অবহেলা ও প্রশাসনিক স্থবিরতার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে পুরো জাতিকে, যার ফলে দেশ ও জাতির অস্তিত্ব এক মহাসংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়াবে।"
উক্ত কর্মী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের স্থানীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে উপস্থিত জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও একসূত্রে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, সমাজ থেকে বিশৃঙ্খলা দূর করে নাগরিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কোনো প্রকার দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বাতন্ত্র্য ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে সব সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার বিষয়েও সম্মেলনে সর্বসম্মত গুরুত্বারোপ করা হয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more