বাউফলে ফ্রান্স প্রবাসীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দেয়াল ভাঙচুর
Date: 2026-08-12
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১২, ২০২৬, ৭:৩৭ এ.এম
বাউফলে ফ্রান্স প্রবাসীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, দেয়াল ভাঙচুর
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরি ইউনিয়নে ফ্রান্স প্রবাসী এক নারীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির এবং তার নির্মাণাধীন স্থাপনার দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে কালিশুরি বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফ্রান্সপ্রবাসী মোসাম্মৎ হামিদা আক্তার (আঁখি) জানান, তিনি ও তার স্বামী মিজানুর রহমান খান দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। কালিশুরি বাজারে বৈধ দলিলমূলে চার শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি ওই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করলে তারা বাধার সম্মুখীন হন।
হামিদা আক্তারের অভিযোগ, তার চাচা নাসির উদ্দিন আহম্মেদ নির্মাণকাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে তিনি ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে ওই জমিতে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। পরে নাসির উদ্দিন ও তার ছেলে নাঈম শিকদার তারেক নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামিদা আক্তার বলেন, “আমরা দেশের বাইরে থেকেও নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ জমিটি ভোগদখল করে আসছিলাম। বর্তমানে এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার চাচাতো ভাই নাঈম শিকদার তারেক আগে বাউফল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের একটি পদে ছিলেন। বর্তমানে ওই পদে না থাকলেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন হামিদা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জমি দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার মা হালিমা খাতুন ওই দাগ ও খতিয়ানে ১৮ শতাংশ জমি পাবেন। এ কারণে আমি মার্কেট নির্মাণে বাধা দিয়েছি।”
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কেন বাধা দেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি ৩০ বছর ধরে দলিল খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। যখন দলিল হাতে পেয়েছি, তখনই তাদের জানিয়েছি। তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাই আমি মার্কেট নির্মাণে বাধা দিয়েছি।”
চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে নাসির উদ্দিন বলেন, “আমি তাদের কাছে কোনো চাঁদা দাবি করিনি এবং চাঁদা চাইওনি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তার ছেলে নাঈম শিকদার তারেকও চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ধুলিয়া ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করব। এর জন্য কারও কাছে হাত পাতার প্রয়োজন নেই, আমার নিজেরই টাকা আছে। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি কারও কাছে টাকা চেয়েছি, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়া ও বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ অভিযোগ করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দাবি করেন, তারা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে হামিদা আক্তার (আঁখিকে) ওই মার্কেট ভোগদখল করতে দেখেছেন। তাদের দাবি, তিনি সেখানে দোকান ভাড়া দিয়ে আসছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী হামিদা আক্তারের ছোট ভাই এনামুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more