বিজিবি-বিএসএফ সহযোগিতায় ভারতীয় নারীর মরদেহ দেখলেন বাংলাদেশি স্বজনরা

Date: 2025-11-08
news-banner

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা:

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছে। দুই বাহিনীর সহযোগিতায় সীমান্তে এক ভারতীয় নারীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে পেরেছেন তার বাংলাদেশি স্বজনরা।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় এ ঘটনাটি ঘটে। এ সময় দুই দেশের সীমান্তে অবস্থানরত স্বজনদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মারা যাওয়া নারী সেলিনা বেগম (৭০) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার গোপালগঞ্জ থানার শ্মশানী চকমাহিলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত গাজলুর রহমানের স্ত্রী। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেলিনা বেগমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার ভাই তোফাজ্জল হক ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন মরদেহটি দেখার সুযোগের অনুরোধ জানান। তোফাজ্জল হক বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোল্লাটোলা বাগিচাপাড়া গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে।

বিজিবি দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমন্বয় করে। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সীমান্তের শূন্যরেখায় মরদেহটি আনা হয় এবং সেখানে আত্মীয়দের দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক সীমারেখার ১৮২/২ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, উভয় বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মানবিকতার জায়গা থেকে বিজিবি সব সময় এমন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, সেলিনা বেগমের বাবার বাড়ি বাংলাদেশে আর স্বামীর বাড়ি ভারতে। মাঝখানে শুধু কাঁটাতারের বেড়া। বহু বছর আগে বিয়ের পর তিনি ভারতে চলে যান। আজ সীমান্তে বেড়ার গেট খুলে তার পরিবারের মানুষদের শেষবার দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিজিবি ও বিএসএফ উভয়ের প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগ প্রতিবেশী দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও গভীর করবে।

Leave Your Comments