বরিশালে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ছে, সরকারি হাসপাতালে নেই টিকা
Date: 2026-05-03
অ-অ+
মেহেদী হাসান বাচ্চু, বরিশাল: বরিশাল বিভাগে দিন দিন বাড়ছে
জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি, অথচ সরকারি হাসপাতালে মিলছে না প্রতিষেধক টিকা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন
সাধারণ মানুষ, ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। জানা গেছে, গত ডিসেম্বর
থেকে বরিশালের কোনো সরকারি হাসপাতালেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রতিদিন বিড়াল ও কুকুরের কামড় কিংবা আঁচড়ের শিকার হয়ে শত শত মানুষ হাসপাতালে আসছেন,
কিন্তু টিকা না পেয়ে ফিরছেন হতাশ হয়ে। শুধু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী টিকা নিতে আসছেন। এছাড়া পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও
ঝালকাঠি থেকেও রোগীদের এখানে পাঠানো হচ্ছে। ভ্যাকসিন সংকটের কারণে চিকিৎসকরা
রোগীদের বাইরে থেকে টিকা কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে
গিয়ে বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেকে একটি
ভ্যাকসিন কিনে কয়েকজন মিলে ভাগ করে নিচ্ছেন, যা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এতে সঠিক ডোজ নিশ্চিত না হওয়ায় টিকার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, এমনকি নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ
ভ্যাকসিন ব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে। কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক
জানান, ভ্যাকসিনের অভাবে তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। “রোগী আসছে, কিন্তু
দেওয়ার মতো ভ্যাকসিন নেই—এটা আমাদের জন্যও কষ্টদায়ক,” বলেন এক চিকিৎসক। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে
জানা যায়, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় প্রতি মাসে প্রায় ৯ হাজার ৭৪০ ভায়াল ভ্যাকসিনের
প্রয়োজন হয়। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮০ ভায়ালে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে
সরবরাহ না থাকায় সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বরিশাল সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপক
মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “গত ডিসেম্বর থেকেই আমাদের কাছে কোনো ভ্যাকসিন নেই। আমরা চাহিদাপত্র
পাঠিয়েছি, বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।” এদিকে সিভিল সার্জন কার্যালয়
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রোগী
ও স্বজনদের। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে,
জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো টিকা নিলে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। তাই দ্রুত
সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more