প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৮, ২০২৬, ১২:৪০ পি.এম
চাঁদার দাবিতে দিশেহারা সত্তরোর্ধ জেলে
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে এক সত্তেরোর্ধ জেলের কাছে চাঁদা দাবি করে প্রাণনাশ ও নৌকা-জাল নষ্ট করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদার দাবিতে হয়রানির শিকার হয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ওই জেলে।
ভুক্তভোগী জেলে দুলাল চৌকিদারের বাড়ি উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মমিনপুর গ্রামে। নদীতে মাছের সংকটের কারণে জীবিকা নির্বাহই যেখানে কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে চাঁদার দাবিতে বারবার হুমকিতে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।
দুলাল চৌকিদারের অভিযোগ, গত ২৪ জুন তেঁতুলিয়া নদীর মমিনপুর পয়েন্ট থেকে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় মামুন মুন্সি নামে একজন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার নৌকা ও মাছ ধরার জাল নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, "ওরা বলেছে, '১০ হাজার টাকা দিবি, নইলে তোর নাও-জাল খাইয়া দিমু।' এরপর থেকেই আমি আতঙ্কে আছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা ও দুলাল চৌকিদার জানান, নদীতে মাছের আকাল থাকায় গত তরমুজ মৌসুমে তিনি মমিনপুর চরে লিজ নিয়ে তরমুজ চাষ করেন। সে সময়ও মামুন মুন্সি ও তার চাচাতো ভাই সুমন মুন্সি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ঝামেলা এড়াতে তিনি ২০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন।
তার আরও অভিযোগ, কিছুদিন পর তার নৌকার ইঞ্জিন আটকে রেখে ফেরত দেওয়ার কথা বলে আবারও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত ইঞ্জিন ফেরত দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ২৪ জুন পুনরায় ১০ হাজার টাকা দাবি করে জাল কেটে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। দুলাল চৌকিদার বলেন, "পরিবার নিয়ে কোনোমতে জীবন চলছে। নদীতে মাছ নেই। এখন ওদের এত টাকা কোথা থেকে দেব? রাতে মারধর করবে, জাল-সুতা নিয়ে যাবে—এই ভয়েই দিন কাটছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।"
স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও মমিনপুর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী, যারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, অভিযোগ করেন, মামুন মুন্সি ও সুমন মুন্সির বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান গাজী বলেন, "দুলাল চৌকিদার একজন পরিশ্রমী ও ভালো মানুষ। তার পক্ষ থেকে মামুনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। আমি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তবে অভিযুক্ত মামুন মুন্সি ও সুমন মুন্সির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুমনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং ক্ষুদে বার্তা (মেসেজ) পাঠালেও তার কোনো উত্তর মেলেনি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more