অনিয়ম ও পতাকার অবমাননা বাউফল প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে
Date: 2026-06-28
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৮, ২০২৬, ১২:৫১ পি.এম
অনিয়ম ও পতাকার অবমাননা বাউফল প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে
অ-অ+
বাউফল(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সেবা এখন রীতিমতো সোনার হরিণ। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সাধারণ খামারিরা সেবার দেখা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। বরং কার্যালয়টিতে এখন অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ প্রকট হয়ে উঠেছে। সরকারি ওষুধ না দিয়ে বাইরে থেকে কেনার নির্দেশ, নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা নিতে আসা লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার যেন এখানকার দৈনন্দিন রুটিন। একইসঙ্গে জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার চিত্রও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাম পাশে একটি প্লাস্টিকের বাঁকা পাইপে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। যে পাইপটি একদিকে হেলে আছে। জাতীয় পতাকার প্রতি এমন অবমাননাকর ও দায়িত্বহীন প্রদর্শন রাষ্ট্রের মর্যাদাকে খাটো করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার ও প্রদর্শনের কঠোর নিয়ম থাকলেও এখানে তা যেন দেখার কেউ নেই। হাসপাতালটিতে সেবা নিতে আসা খামারি ও পশু পালনকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভেতরে ঢুকলেই মেলে না সরকারি সেবা। পশুর চিকিৎসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কেনার প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালের সেবা চার্ট থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, স্ট্যাফদের প্রত্যাশিত ‘উৎকোচ’ না দিলে রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়। মদনপুরা গ্রামের শামীম নামের এক খামারি জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা ছাগল কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বাইরে থেকে ব্লেড কিনে আনতে বলেন। এমনকি ভুক্তভোগী খামারিকেই পশুর ক্ষতস্থান পরিষ্কার করার মতো কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পর্যাপ্ত সেবা ও সরকারি ওষুধের অভাবে শেষ পর্যন্ত তার ছাগলটি মারা যায়। চিকিৎসা খরচ ও ওষুধের টাকা জোগাতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়েছেন বলে জানান। সূর্যমনি ইউনিয়নের ফারুক হোসেন জানান, আগে তার বড় খামার ছিল। কিন্তু প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ডাক্তারদের অবহেলা ও সেবার বিনিময়ে টাকা আদায়ের কারণে তিনি খামার গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় প্রয়োজনে তাদের ফোনেও পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাঠ সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) মনিরুল ইসলাম জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে দায় সারেন। অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘যদি সেবাগ্রহীতাদের সাথে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খামারিদের চিকিৎসা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ তবে খামারিরা বলছেন, শুধু মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না, চাই প্রশাসনিক তদারকি। স্থানীয়রা দ্রুত এই দপ্তরটিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রকৃত সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more