চট্টগ্রাম শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জিম্মি করে দীর্ঘদিন ধরে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে আসছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। চাঁদা দাবির আগে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ ও স্বজনদের বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হতো এই অপতৎপরতা। পরবর্তীতে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে হুমকি দিয়ে চাওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা। দাবি পূরণ না হলে চালানো হতো সশস্ত্র হামলা কিংবা ভাঙচুর।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, চাঁদা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি ইমনের নিজস্ব আলাদা কয়েকটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। একটি দল সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সংগ্রহ করত, আরেকটি দল এলাকাভিত্তিক বাহক হিসেবে প্রকাশ্যে বা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে নগদ চাঁদার টাকা সংগ্রহ করত। অন্য দলটি পরিচালনা করত হামলা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম। সংগৃহীত নগদ টাকা চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে হুন্ডি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হতো শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের কাছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর নির্মাণাধীন ভবনে হামলা এবং ইন্টারনেট সেবাদানকারী একটি প্রতিষ্ঠানে দুই কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে ভাঙচুর চালায় ইমনের সহযোগীরা। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করে প্রতিকার দাবি করেন। ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
অবশেষে ভারত পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে যশোর সীমান্ত এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে ইমনের বাহিনীর আরও বেশ কয়েকজন সদস্য এখনো অধরা থাকায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মনে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more