অনলাইন ডেক্স:
চীনের হুবেই প্রদেশের ৪০ বছর বয়সী এক নারী প্রায়
দশ বছর ধরে একটি তথাকথিত ‘খাঁটি হার্বাল ক্রিম’ ব্যবহার করতেন ত্বকের চুলকানি ও ফুসকুড়ির
সমস্যা কমাতে। শুরুতে কিছুটা আরাম পেলেও সময়ের সঙ্গে সেই ক্রিমই তাঁর জীবনে ভয়াবহ পরিবর্তন
নিয়ে আসে।
নারীর শরীরে ধীরে ধীরে সাপের মতো আঁশযুক্ত দাগ ও
রেখা দেখা দেয়। ত্বক শক্ত হয়ে যায়, পায়ে ফুলে ওঠে বেগুনি ও লাল দাগ। চিকিৎসকরা পরীক্ষা
করে দেখেন, তাঁর দেহে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে— যা দীর্ঘদিন ধরে
স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহারের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
প্রায় এক লক্ষ ইউয়ান (প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা) খরচ করে
তিনি এই ‘প্রাকৃতিক চিকিৎসা’ চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ক্রিমটিতে গোপনে শক্তিশালী স্টেরয়েড
উপাদান ছিল, যা ত্বকের নিজস্ব প্রতিরোধক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এখন অনলাইনে বিক্রি হওয়া অনেক ক্রিমই
‘স্টেরয়েড-মুক্ত’ বা ‘হার্বাল’ বলে প্রচারিত হলেও বাস্তবে বিপজ্জনক উপাদান থাকে। এগুলি
প্রথমে আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো অজানা বা অনলাইন থেকে
কেনা ক্রিম ব্যবহার করা বিপজ্জনক।
“প্রাকৃতিক” বা “হের্বাল” লেখা মানেই নিরাপদ নয়।
ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে
সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
ভুল তথ্য ও বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ক্ষতির
মুখে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন- ত্বকের যতে যাচাই-বাছাই করা, চিকিৎসক-স্বীকৃত
পণ্যই ব্যবহার করা উচিত, কারণ একটিমাত্র ভুল সিদ্ধান্ত পুরো শরীরের হরমোন ভারসাম্য
নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট