ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক ও এডহক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ
Date: 2026-10-07
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ০৭, ২০২৬, ১২:০০ পি.এম
ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক ও এডহক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক দ্বারা ও এডহক কমিটি গঠনে অনিয়ম দূর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল হোসেন ঠিকমত প্রতিষ্ঠানে আসেনা এবং পাঠদান করেন না। তিনদিন পরপর এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে চলে যান। এমন অভিযোগ রয়েছে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন ও সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তারের বিরুদ্ধেও। আবার এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে সোবহান খানকে। কিন্তু তার কোনো সন্তানই এখন ওই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী হিসেবে নেই। এহেন কর্মকাণ্ডের শেল্টারে রয়েছেন অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (০৭ অক্টোবর২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২ দিকে সরেজমিনে ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজে আসলে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক নুপুর আক্তার ছাড়া ওই বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঈসমাইল হোসেন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন কে পাওয়া যায়নি।
আবার অভিভাবক সদস্য হিসেবে সোবহান খানকে রাখা হয়েছে। তিনি সরেজমিনে জানান, আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে ঢাকাতে ব্যবসা করে। আর আমার ছোট ছেলে আতিকুল ইসলাম ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজে থেকে গত সনে ইন্টারপাস করে এখন কালিশুরী কলেজে ডিগ্রিতে পড়ে। ওই প্রতিষ্ঠানে এখন আমার কোনো সন্তান পড়ালেখা করে না। তাহলে কেমন করে আপনি অভিভাবক সদস্য হলেন এমন প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন, এরআগেও দুইবার সদস্য ছিলাম সুবাদে অধ্যক্ষের সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে তাই এবারও আমাকে অভিভাবক সদস্য বানিয়েছেন।
এদিকে সহকারী অধ্যাপক ঈসমাইল হোসেন কে একাধিক বার ফোন দিলেও কল রিসিভ করে কথা না বলায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী অধ্যাপক নিজাম উদ্দীন কে তার মুঠোফোনে কল দিলে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দুইদিনের মানে মঙ্গলবার ও বুধবার পটুয়াখালী আদালতে একটা কাজের জন্য ছুটি নিয়েছি। কেউ যদি অভিযোগ করে তা ভিত্তিহীন।
উভয় বিষয়ে ধুলিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে এবং মোবাইল ক্যামেরায় অনুমতি নিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি প্রথমে ভাব নিয়ে বক্তব্য না দেওয়ার ভান করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ভিডিও বক্তব্য না দিয়ে তার বক্তব্য লিখে নেওয়ার জন্য বলেন। এতে বলেন, ইসমাইল হোসেন প্রতিষ্ঠানে এসে মৌখিক ভাবে বলে বাড়ি গেছেন। আর নিজাম উদ্দিন পটুয়াখালী কি কাজ যেন আছে বলে কিছুক্ষন আগে ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। তবে নুপুর আক্তার প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন। তবে নিজাম উদ্দিনের বক্তব্যের সাথে তার বক্তব্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য সোবহান খানের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে নতুন ভাবে গত ১৫/০৭/২০২৬ ইং তারিখ এডহক কমিটি হয়েছে। সেখানে এডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আর সোবহান খানকে এডহক কমিটির অভিভাবক সদস্য করা হয়েছে। কারণ তার ছেলে আতিকুল ইসলাম গত বছর ইন্টার পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে। এখন সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তবে অভিভাবক সদস্য সোবহান খানের বক্তব্যের কথা শুনিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে বুজতে পারেনি তাই ভুল বলেছে বলে জানান। এখানেও বক্তব্যে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
তবে নাম না বলা শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ স্হানীয়রা জানান, এই অধ্যক্ষের যত অনিয়ম দুর্নীতির কারন। তবে এডহক কমিটি সভাপতি যেহেতু উপজেলা নির্বাহী অফিসার,
তাই তিনি যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন মর্মে আমাদের অনুরোধ রইল।
এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এডহক কমিটির সভাপতি সালেহ আহমেদ বলেন, এব্যাপারে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা সহ অধ্যক্ষের সংশ্লিষ্টতা যদি পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং অভিভাবক সদস্যকে পরিপত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more