হানিফসহ চার আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ
অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ৬:২৯ এ.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ৬:২৯ এ.এম
হানিফসহ চার আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করা হবে আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করবেন। আলোচিত এই মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ মোট চারজন আসামি রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। মামলার চার আসামির সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন— কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান।
আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫, ১৭ ও ৩০ জুলাই আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে তাঁর উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন জানান মাহবুব উল আলম হানিফ। এ ছাড়া গত বছরের ২৯ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সভায় আন্দোলনকারীদের জামায়াত ও সন্ত্রাসী ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন চালানোর সুনির্দিষ্ট উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, মাহবুব উল আলম হানিফের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক গোপন সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সদর উদ্দিন খান, আসগর আলী ও আতাউর রহমানসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্দোলন দমনের নামে কুষ্টিয়া শহরে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে বলা হয়েছে, এই চার শীর্ষ নেতার সরাসরি পরিকল্পনা ও নির্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। ওই দিনের নৃশংস হামলায় ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ছয়জন বীর যোদ্ধা— আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর ২৫ মার্চ এই মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। এরপর ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়।
বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হয়, যেখানে মোট ১৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ১০ জুন এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও কিছু নতুন নথিপত্র ও সাক্ষী হাজির করা হয় এবং পুনরায় যুক্তিতর্ক শেষে গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য নির্ধারণ করেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more