প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১:২৮ এ.এম
ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির যৌথ হামলা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরাকে ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর একাধিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে সর্বাত্মক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রয়টার্স ও আল–জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার ভোরে ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান–সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)–এর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে বিমান হামলা চালায় ওয়াশিংটন ও রিয়াদ। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এই যৌথ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।
পিএমএফ জানিয়েছে, বাগদাদ, নিনেভে, বসরা, কিরকুকসহ কয়েকটি প্রদেশে চালানো এই হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ইরাকি প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল–জাইদি।
অন্যদিকে, ইরাকে যৌথ হামলার প্রায় একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নিশানা করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। জর্ডান ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে কয়েকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এই হামলার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে এই প্রথম প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের অংশ নেওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক বড় মোড়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথেও উত্তেজনা বাড়ছে।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সব পক্ষকে সংযত হয়ে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট সহজে থামছে না, বরং তা আরও নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more