যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের শক্তিশালী ড্রোন প্রকাশ

Date: 2026-03-11
news-banner

অনলাইন ডেক্স:
উত্তেজনার মধ্যেই ইরান তাদের আত্মঘাতী ড্রোন শাহেদ-১০১-এর একটি আরও উন্নত ও শক্তিশালী সংস্করণ প্রকাশ করেছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সংস্করণটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতাও এতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা ড্রোনটির নতুন সংস্করণের কিছু ছবি প্রকাশ করেন। সেসব ছবিতে ড্রোনটির কাঠামোগত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ভূমিকা দিন দিন বাড়ছে এবং ইরানের এই নতুন উদ্যোগ সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে এনেছে। তুলনামূলক কম খরচে দূরপাল্লার হামলা চালানো এবং প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার ক্ষেত্রে এ ধরনের ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন সংস্করণের শাহেদ-১০১ ড্রোনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে এর প্রপেলার বা পাখার অবস্থানে। আগের মডেলগুলোতে সাধারণত ড্রোনের পেছনের দিকে গ্যাসোলিনচালিত ইঞ্জিন থাকত, যা উড়ার সময় বিশেষ ধরনের শব্দ তৈরি করত। কিন্তু নতুন সংস্করণে প্রপেলারটি সামনের দিকে স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি একটি বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা চালিত হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে ড্রোনটি আকাশে উড়ার সময় প্রায় নীরব থাকবে এবং তাপ নির্গমনও খুব কম হবে। ফলে রাডার ও ইনফ্রারেড শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে একে শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ড্রোনটিতে একটি রকেট বুস্টারও যুক্ত করা হয়েছে, যা উৎক্ষেপণের সময় ড্রোনটিকে দ্রুত গতি পেতে সহায়তা করবে। প্রয়োজনীয় গতি অর্জনের পর এই বুস্টার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
শাহেদ-১০১ মূলত একটি ‘লোইটারিং মিউনিশন’ বা আত্মঘাতী ড্রোন। এটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে সম্ভাব্য লক্ষ্য খুঁজে বেড়াতে পারে এবং লক্ষ্য নির্ধারণের পর বিস্ফোরকসহ সেখানে আঘাত হানে। আকারে ছোট হওয়ায় এটি আগেই শনাক্ত করা কঠিন ছিল, আর নতুন বৈদ্যুতিক মোটর যুক্ত হওয়ায় ড্রোনটির শব্দও প্রায় শোনা যাবে না।
তথ্য- বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস/সুমাইয়া শিমু

Leave Your Comments