অনলাইন ডেক্স: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের
কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল ইসমাইল কানিকে ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু
হয়েছে। কয়েকদিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তেহরানের রাজনৈতিক ও
সামরিক মহলে আলোচনা বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা
হয়েছে, প্রভাবশালী এই সামরিক কমান্ডারকে ঘিরে এমন কিছু অভিযোগ উঠেছে যা ইরানের ভেতরে
ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কাসেম সোলাইমানির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া কানির
বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে বলা হচ্ছে। কিছু সূত্রের দাবি, তিনি নাকি ইসরায়েলের
গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদুএর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। ইরানের আঞ্চলিক সামরিক কার্যক্রমে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী একজন নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও
গুরুত্ব পাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবনে হওয়া বিমান হামলার সঙ্গে
কানির তথ্য জড়িত থাকতে পারে। ওই হামলায় খামেনির মৃত্যুর খবর ইরানের ভেতরে বড় ধরনের
ধাক্কা তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এছাড়া কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হামলার
কয়েক মিনিট আগে কানি ওই এলাকা ত্যাগ করেছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এতে অনেকের
মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে—তিনি কি আগেই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন? যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয়
গণমাধ্যম এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। তবে আরব অঞ্চলের কিছু গণমাধ্যমে
দাবি করা হয়েছে, কানিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য
ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনও দাবি করা হচ্ছে,
গত কয়েক বছর ধরে তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পৌঁছে দিচ্ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা
ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে। এর আগে বিভিন্ন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে
বেঁচে যাওয়ার কারণে অনেকেই কানিকে ‘নয় প্রাণের মানুষ’ বলে উল্লেখ করতেন। এমনকি হাসান
নাসরুল্লাহর মৃত্যুর সময়ও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে
বলা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। নিজ দেশের ভেতরেই তিনি এখন সন্দেহের মুখে
পড়েছেন। খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা প্রশ্ন পুরো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর
ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে। যদি অভিযোগগুলো সত্য
হয়, তাহলে তা ইরানের গোয়েন্দা কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এখনো
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক
কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। তথ্য- সান/বিডিপ্রতিদিন বিডিফেস/ সুমাইয়া শিমু
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more