অনলাইন ডেক্স:
দীর্ঘ ১৮ মাস দায়িত্ব
পালনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের বিলুপ্তিতে অনেকটা ঘরবন্দি ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন
সাবেক উপদেষ্টাদের বড় একটি অংশ। জনরোষ বা মব আতঙ্কের কারণে তাঁদের অনেককেই জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। কেউ
নিজের পুরোনো পেশায় ফিরেছেন, কেউবা দেশ ছেড়েছেন। আবার কেউ কেউ নতুন সরকারের উচ্চপদস্থ
ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে
এসব তথ্য জানা গেছে।
পুরোনো কর্মস্থলে ড.
ইউনূস ও অন্য উপদেষ্টারা-
বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত রবিবার থেকে তাঁর পুরোনো কর্মস্থল ইউনূস
সেন্টারে সময় দেওয়া শুরু করেছেন। বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় অবস্থান
করলেও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি গুলশানে নিজের বাসভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যান্য উপদেষ্টাদের
মধ্যে আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান নিজের
সংগঠন বেলার প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান
বেগম গ্রামীণ ব্যাংকে এবং প্রধান সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ ইউনূস সেন্টারে ফিরেছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন পুনরায় নিজের ব্যবসায় পূর্ণ সময় দিচ্ছেন।
দেশ ছেড়েছেন তিন জন,
লাইনে আরও অনেকে-
নির্বাচন ও নতুন সরকারের
শপথ গ্রহণের পরপরই অন্তত তিন জন প্রভাবশালী সদস্য দেশ ছেড়েছেন: ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব: প্রধান
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (আইসিটি), গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জার্মানি চলে গেছেন। লুৎফে সিদ্দিকী:
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত, ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। অধ্যাপক
আলী রীয়াজ: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, গত রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন।
সূত্রমতে, আরও অন্তত
৬ জন উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী বর্তমানে দেশ ছাড়ার জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন
এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের চেষ্টা করছেন।
বিরাজ করছে মব আতঙ্ক-
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়িত্ব
থাকাকালীন যেসব উপদেষ্টা অতিরিক্ত কথা বলে আলোচনায় ছিলেন বা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার
চেষ্টা করেছেন, তাঁরা এখন চরম অস্বস্তিতে আছেন। বিশেষ করে সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে
বিতর্কিত অবস্থান নেওয়া এবং রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের
প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রটোকল ও
পতাকাবাহী গাড়ি প্রত্যাহারের পর থেকে অনেক উপদেষ্টা জনসমক্ষে আসছেন না। রাজধানীর ধানমন্ডি
ও গুলশান এলাকায় তাঁদের বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা।
ব্যাতিক্রম যারা-
তবে বিতর্কমুক্ত থেকে
কাজ করে যাওয়া উপদেষ্টারা অনেকটা সাবলীল আছেন। সাবেক নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রি জে (অব.)
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, তিনি নিয়মিত বাজারে যাচ্ছেন এবং কোস্টগার্ডসহ সাধারণ মানুষের
সহযোগিতা পাচ্ছেন। এছাড়া ড. খলিলুর রহমান নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এবং
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিডার চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছেন।
সরকারি বাসা ছাড়ার তোড়জোড়-
নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের
জন্য আবাসন ব্যবস্থা করতে বিদায়ী উপদেষ্টাদের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সরকারি বাসভবন ছাড়ার
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাদের নিজস্ব বাড়ি নেই, তারা তড়িঘড়ি করে ভাড়া বাসা খুঁজছেন।
তথ্য-বিডিপ্রতিদিন
বিডিফেস-শিমু