কুয়াকাটায় যুবদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

Date: 2026-05-01
news-banner

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকসহ শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় তারা ‘পকেট কমিটি মানি না, মানবো না’ স্লোগান দেন এবং বর্তমান কমিটি বাতিল করে গ্রহণযোগ্য নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শহিদ সিকদার, যুবদল নেতা হারুন মুসুল্লি, আবুবকরসহ আরও অনেকে। বক্তারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত এই কমিটি দলীয় আদর্শ ও সাংগঠনিক নীতিমালার পরিপন্থী।
তাদের দাবি, নতুন কমিটিতে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সংগঠনের জন্য বিব্রতকর। ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত শাকিব নামের একজনসহ বহিষ্কৃত তিনজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, শাকিব পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং জেলা পর্যায়ে দায়িত্বও পালন করেছেন।
এছাড়া পৌর ছাত্রদলের রানিং আহ্বায়ক জুবায়ের আহমেদ রিয়াজকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ ফারুক মীর বলেন, “ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেই ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সবাইকে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের অনেকেই ওয়ার্ড পর্যায়ে দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে কেউ কেউ বহিষ্কৃতও।”
উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি কুয়াকাটা পৌর যুবদলের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন কমিটিতে সৈয়দ মো. ফারুককে সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মিরনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক সংগঠনে দায়িত্বে থাকতে পারেন, তবে প্রয়োজনে দল যেকোনো একটি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিতে পারে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত কমিটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছেন, দাবি পূরণ না হলে তারা পদত্যাগ করবেন।

Leave Your Comments