লালমনিরহাটে আসামির কোপে ২ পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত
Date: 2026-06-27
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৭, ২০২৬, ১১:১৭ এ.এম
লালমনিরহাটে আসামির কোপে ২ পুলিশ কর্মকর্তা রক্তাক্ত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আসামির ধারালো দায়ের এলোপাতাড়ি কোপে তারা মারাত্মকভাবে জখম হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত আসামি।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের গেন্দুকুড়ি এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন— হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল লতিফ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেন্দুকুড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ওরফে 'রাশেদ চোর' এর বিরুদ্ধে চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে রাশেদুল তার বাড়িতে অবস্থান করছে জানতে পেরে এসআই রুহুল আমিন ও এএসআই আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামি রাশেদুল নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে সে ঘর থেকে দেশীয় ধারালো দা বের করে দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। দায়ের কোপে এসআই রুহুল আমিনের হাতের কবজিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে একইভাবে মারাত্মক আঘাত পান এএসআই আব্দুল লতিফও। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করে আসামি রাশেদুল রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনার খবর পেয়ে হাতীবান্ধা থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে। তাদের প্রথমে স্থানীয় হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসআই রুহুল আমিনের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় শনিবার সকালে তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে (রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল/ডক্টরস ক্লিনিক) ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তার অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে আমাদের দুই পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। আহত এসআই রুহুলের অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে রংপুরের ডক্টরস ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more