প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৭, ২০২৬, ১২:৫২ পি.এম
মাত্র ৮ বছর বয়সে আপন বোনসহ তিনটি খুন
অ-অ+
শিশু সিরিয়াল কিলার:
২০০৭ সালে ভারতের বিহার প্রদেশের মাসাহারি গ্রামে তিন মাস বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর উন্মোচিত হয় এক ভয়ঙ্কর সত্য। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে আট বছর বয়সী এক শিশুর নাম, যার নাম অমরজিৎ সাদা। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক দিনমজুরের সন্তান মনে হলেও, জেরার মুখে সে যে স্বীকারোক্তি দেয়, তা পুলিশ প্রশাসনসহ পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয়। কোনো অনুশোচনা ছাড়াই সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, গ্রামের নিখোঁজ হওয়া সেই তিন মাস বয়সী শিশু খুশবুকে সে নিজেই হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, খুশবুকে হত্যার পর পাশের একটি জঙ্গলে ঘাস-পাতা দিয়ে তার রক্তাক্ত দেহ লুকিয়ে রাখার স্থানটিও সে পুলিশকে দেখিয়ে দেয়। ভীতিকর বিষয় হলো, এটিই অমরজিতের প্রথম অপরাধ ছিল না। খুশবু হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তদন্ত আরও গভীরে পৌঁছালে জানা যায়, এর আগের এক বছরে সে আরও দুটি শিশুকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ২০০৬ সালে প্রথমবার অমরজিতের নিজের ছয় বছর বয়সী চাচাতো বোন নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত না পৌঁছালেও, তার ঠিক তিন মাস পরই অমরজিতের নিজের আট মাস বয়সী আপন বোনও একইভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জানা যায়, বাড়িতে বড়দের অনুপস্থিতির সুযোগে নিজের ছোট বোনকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল অমরজিৎ। এমনকি বোনের মৃত্যুর পর তার নিথর দেহকে নির্জন স্থানে নিয়ে ইটের টুকরো দিয়ে আঘাত করে বিকৃত করেছিল সে। একইভাবে সে তার চাচাতো বোনকেও হত্যা করে পুঁতে রেখেছিল। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, অমরজিতের এই ভয়ঙ্কর খুনে মানসিকতার পেছনে কাজ করেছে এক পৈশাচিক আনন্দ। কেন সে শিশুদের হত্যা করত—এমন প্রশ্নের জবাবে সে অবলীলায় জানায়, কাউকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখলে বা আর্তনাদ করতে দেখলে তার ভীষণ ভালো লাগত। শৈশব থেকেই একা থাকা এবং চরম একাকীত্ব তাকে এক নির্মম ও আবেগহীন সাইকোপ্যাথে পরিণত করেছিল। মাত্র আট বছর বয়সেই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সে গিনেস বুকসহ অপরাধের ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী সিরিয়াল কিলারের তকমা পায়। যেহেতু সে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল, তাই দেশের আইন অনুযায়ী তাকে সাধারণ কারাগারে না পাঠিয়ে চাইল্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে (Bal Mitra Griha) পাঠানো হয়। সেখানে ১০ বছর সাজা কাটানোর পর সে মুক্তি পেলেও, বর্তমানে সে কোথায় আছে বা কী পরিচয়ে বেঁচে আছে, তা সম্পূর্ণ অজানা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more