মালয়েশিয়ার ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে আড়াই বছরে ১৪০ মৃত্যু
Date: 2026-07-19
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ১৯, ২০২৬, ৫:০০ এ.এম
মালয়েশিয়ার ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে আড়াই বছরে ১৪০ মৃত্যু
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
মালয়েশিয়ায় অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কঠোর অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলো (ডিটেনশন ক্যাম্প) চরম অমানবিক পরিবেশের কারণে যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোর্টিফাই রাইটস’ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংসদীয় তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জানিয়েছে, গত আড়াই বছরে (২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত) দেশটির বিভিন্ন আটককেন্দ্রে অন্তত ১৪০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এই কেন্দ্রগুলোতে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী ও ১২ জন শিশুসহ মোট ৪৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।
সংস্থাটির দাবি—ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, ত্রুটিপূর্ণ স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং চরম চিকিৎসাজনিত অবহেলাই এই বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর প্রধান কারণ। বর্তমানে মালয়েশিয়ার ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোতে ২১ হাজার ৫৩০ জনের সরকারি ধারণক্ষমতার বিপরীতে ২২ হাজার ৪৫ জন বন্দি রয়েছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এই ভিড়ের কারণে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
২০২৫ সালে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন সাবেক বন্দির সাক্ষাৎকার থেকে চিকিৎসাসেবার এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। ‘হোসেন’ (ছদ্মনাম) নামের এক বাংলাদেশি সাবেক বন্দি অভিযোগ করেছেন যে, ক্যাম্পে কেউ অসুস্থতার কথা জানালে উল্টো মারধরের শিকার হতে হতো এবং শাস্তির ভয়ে অনেকেই রোগ লুকিয়ে রাখতেন; এমনকি একদম মুমূর্ষু অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত কাউকে হাসপাতালে নেওয়া হতো না। এছাড়া রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের সাবেক বন্দিরা জানিয়েছেন, তীব্র জ্বর, দাঁত কিংবা পেটের ব্যথার মতো মারাত্মক যন্ত্রণাতেও কোনো ডাক্তার না দেখিয়ে কেবল ‘প্যারাসিটামল’ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করত কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের ‘নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস’ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী আটক প্রতিটি ব্যক্তির বিনামূল্যে সাধারণ নাগরিকদের সমমানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে, যা এখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পিটার বাউকার্ট এই অমানবিক পরিস্থিতিকে ‘অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর’ জন্য দায়ী করে অবিলম্বে তা বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং অতীতের প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more