মব সন্ত্রাসে তিন মাসে ছয় শিক্ষকের মৃত্যু, শতাধিক অসুস্থ

Date: 2026-04-21
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী অর্ন্তর্বতী সরকারের প্রথম তিন মাসেই দেশে নজিরবিহীন মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ছয়জন শিক্ষকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক শারীরিকভাবে আহত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আবার অনেকেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা, হেনস্তা করা এবং সামাজিকভাবে অপদস্থ করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম এমনই এক ঘটনার শিকার হন। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ১০-১৫ জন বহিরাগত যুবক তাকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে অপবাদ দিয়ে পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারে বসেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকরা জানান, চরম মানসিক চাপ ও ভয়ের কারণে তিনি স্ট্রোক করেছেন। বর্তমানে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মামলা দায়ের হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানা গেছে।
একই ধরনের ঘটনা ঘটে কিশোরগঞ্জেও। আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুবকর সিদ্দিক ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একটি পরিকল্পিত মবের কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হন। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার বাসায় হামলা হয় এবং তিনি আত্মগোপনে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা আর্থিক অনিয়মসহ ১৯টি অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সাময়িক বরখাস্তের পর তাকে পুনর্বহাল করা হলেও ঘটনার প্রভাব এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন মৃধাও একই ধরনের ঘটনার শিকার হন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি পক্ষ তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করে। পরে মানসিক চাপে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন বলে পরিবারের দাবি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত এসব মব সন্ত্রাস শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
 
তথ্য- কালেরকন্ঠ
বিডিফেস/মেহেদীহাসান দ্বীপ

Leave Your Comments