নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ) সংবাদদাতা:
জেলা নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জে নামাজ আদায় করতে ব্যবহার হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ডিজিটাল হাজিরা। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে মূলত ধর্মীয় অনুশাসন এবং নৈতিকতা বৃদ্ধির জন্য। এর ফলে অনেকের মধ্যে নামাজ পড়ার আগ্রহও বেড়েছে।
২০০৮ সালে অগ্রপথিক পল্লী সমিতির উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই মসজিদটির মূল লক্ষ্য হলো এলাকার মানুষকে ধর্মভীরু ও নৈতিকভাবে সচেতন করে একটি আদর্শ সমাজ তৈরি করা। এখানে শুধু নামাজ পড়লেই হয় না, উপস্থিতি রেকর্ড করা হয় ডিজিটাল হাজিরার মাধ্যমে। এই হাজিরা থেকে তৈরি হয় এক ধরনের 'আমলনামা', যা থেকে স্টাফরা দেখতে পারেন মাসে কত ওয়াক্ত নামাজ তারা আদায় করেছেন। এই নিয়ম জিন্দা পার্কের স্টাফ এবং পার্কের ভেতরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
এই মসজিদে নামাজ আদায়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়া বাধ্যতামূলক। জিন্দা পার্কের স্টাফ কামরুজ্জামান জানান, যদি কোনো কর্মী নিয়মিত নামাজ না পড়েন, তার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, তারা পান বিশেষ প্রণোদনা। যদি কেউ নামাজ পড়তে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বা সমিতির সদস্যপদ বাতিল করা হয়। এই কঠোর নিয়ম মেনে চলার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভালো কিছু রেখে যেতে। সততা, আন্তরিকতা, নিষ্ঠা — এই তিনটি গুণ থাকলেই একটি আদর্শ সমাজ গড়ে ওঠে।"
এই মসজিদটি স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও নজরকাড়া। প্রবেশদ্বারের মুখে তিনটি ছোট গম্বুজ এবং মূল দালানের ওপর একটি বড় গম্বুজ রয়েছে। মসজিদের বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো দরজা-জানালা নেই, যা এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখে। ফলে গরমের সময়েও ভেতরে শীতল পরিবেশ বজায় থাকে এবং মুসল্লিরা যেকোনো সময় অবাধে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে বিশাল খোলা ময়দান এবং নারীদের জন্য রয়েছে আলাদা নামাজের স্থান।
ভেতরের মেঝেতে দামি সেগুন কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে এবং দেয়ালগুলোতে মোঘল আমলের স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়, যেখানে খেজুরগাছের নকশা খোদাই করা আছে। মসজিদের প্রবেশদ্বারের পাল্লাগুলো লোহাকাঠ দিয়ে তৈরি এবং মোট ৯টি প্রবেশদ্বার রয়েছে মসজিদটিতে।