অনলাইন ডেস্ক:
গুলশানের একটি শপিং মলের ফুডকোর্টে গোপন বৈঠকের সময় নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে পৃথক তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত পুলিশের আবেদনের শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, সদস্য এস এম রেজওয়ান হাবিব আলিফ ও কর্মী মো. আমিনুর রহমান; যশোর মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক নান্নু মিয়া, চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইব্রাহিম হোসেন এবং মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সজল আহমেদ।
নথিসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গুলশান-১ এলাকার একটি শপিং মলের ফুডকোর্টে নিষিদ্ধ এই দলটির নেতা-কর্মীদের সংগোপনে সমবেত হওয়ার তথ্য পায় পুলিশ। খবর পেয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে উপস্থিত সদস্যরা পলায়নের চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ ধাওয়া দিয়ে উল্লিখিত ছয়জনকে আটক করতে পারলেও চক্রটির বেশ কয়েকজন কৌশলে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক জাহিদ হাসান বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন শাখার বিভিন্ন খসড়া কমিটির তালিকা এবং নতুন কমিটি গঠনের জন্য রক্ষিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিল জব্দ করে পুলিশ। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কে এম মফিজুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি রিমান্ড বাতিল ও জামিনের জন্য শুনানিতে অংশ নেন। বিচারক উভয় পক্ষের কথা শুনে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং পুলিশ জানিয়েছে, জব্দকৃত মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রান্তে জড়িত পলাতকদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তথ্য: প্রথম আলো/ বিডিফেস
মেহেদী হাসান