জামায়াতের চিত্রপ্রদর্শনীতে শেখ মুজিব থাকলেও অনুপস্থিত জিয়াউর রহমান
Date: 2026-08-09
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ০৯, ২০২৬, ৪:৪৪ এ.এম
জামায়াতের চিত্রপ্রদর্শনীতে শেখ মুজিব থাকলেও অনুপস্থিত জিয়াউর রহমান
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি ইতিহাসভিত্তিক চিত্রপ্রদর্শনী কেন্দ্র করে দেশে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত 'জুলাই এখনো শেষ হয়নি' শীর্ষক ৬ দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণসহ ইতিবাচক ও নেতিবাচক বিভিন্ন ইতিহাস তুলে ধরা হলেও স্থান পাননি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। প্রদর্শনীর এই বিষয়টিকে "রহস্যজনক" আখ্যা দিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
গত ৫ আগস্ট শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হওয়া এই প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ইতিহাসকে মোট ৬টি পর্বে ভাগ করে তুলে ধরা হয়। সেখানে আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিবুর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার কিংবা একনায়ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে একইসাথে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার একাধিক ছবি স্থান পেলেও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান কিংবা তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি।
জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যার পরও অসন্তোষ: প্রদর্শনীতে কূটনৈতিকদের সফরের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য মূলত স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের স্বরূপ তুলে ধরা, কারও সাফল্য দেখানোর প্রদর্শনী এটি নয়। যেহেতু জিয়াউর রহমান কোনো স্বৈরাচারী বা একনায়ক শাসক ছিলেন না, তাই এই ক্যাটাগরিতে তাঁর ছবি বা তথ্য আনা হয়নি। শফিকুর রহমান আরও দাবি করেন, ইতিহাসে যাঁর যা ভূমিকা রয়েছে, সেগুলোর প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল ও বাস্তববাদী।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও রাজনীতিতে ক্ষোভ: জামায়াত আমিরের এই ব্যাখ্যায় রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলে তৈরি হওয়া বিতর্ক থামেনি। জামায়াতের এই প্রদর্শনী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, চিত্রপ্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমান এবং জুলাই আন্দোলনের সব দৃশ্যপট সুন্দরভাবে তুলে ধরা হলেও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া অত্যন্ত রহস্যজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই প্রদর্শনীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবস্থান স্বীকার করলেও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র জিয়াউর রহমানকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিএনপির সাথে জামায়াতের কৌশলগত বা মতাদর্শিক দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more