প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৬:০৫ এ.এম
প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুবককে হত্যা
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হলো এক নির্মম হত্যাকাণ্ড। রাজধানীর বছিলার এক ফাঁকা মেসে ডেকে নিয়ে সাজ্জাদ হোসেন নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর লাশ ৯ টুকরো করে দুটি ভিন্ন জেলায় ফেলে দেওয়া হয়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে ঘটনার পেছনের পরকীয়া, ব্ল্যাকমেইল ও দাম্পত্য কলহের এক রোমহর্ষক কাহিনী। ঘটনাটি গত বছরের ৩ এপ্রিলের হলেও সম্প্রতি পিবিআইয়ের জমা দেওয়া অভিযোগপত্র ও আদালতের চলমান সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সামনে এসেছে এর বিস্তারিত চিত্র।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত সাজ্জাদ হোসেন সাভারের হেমায়েতপুরের বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন। ঢাকার বনানীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাজ্জাদের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সুমাইয়া তৃষ্ণা নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর। পরিচয় থেকে শুরু করে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সুমাইয়া তাঁর সহপাঠী রোকনুজ্জামান পলাশকে পারিবারিক অগোচরে বিয়ে করেছিলেন এবং স্বামী-স্ত্রী আলাদা স্থানে বসবাস করছিলেন। একপর্যায়ে সাজ্জাদ ও সুমাইয়ার ব্যক্তিগত ছবি ও অন্তরঙ্গতার বিষয়টি স্বামী রোকনুজ্জামানের নজরে আসলে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ ও পরিস্থিতি সামাল দিতে সুমাইয়া তাঁর স্বামী রোকনুজ্জামানের সঙ্গে মিলে প্রেমিক সাজ্জাদকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অন্য সব সদস্য অনুপস্থিত থাকা বছিলার মেস বাসায় সাজ্জাদকে ডেকে নেওয়া হয়। রোকনুজ্জামান আগেই এক রিকশাচালকের এনআইডি দিয়ে কেনা ভুয়া সিমের মাধ্যমে সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করান এবং ঘটনার দিন মেসের বাথরুমে লুকিয়ে থাকেন। সাজ্জাদ কক্ষে প্রবেশ করতেই রোকনুজ্জামান পেছন থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাজ্জাদ নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাঁকে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে লাশ টুকরো করে গুম করার চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার পর আসামিরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গার সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।
পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ পরিদর্শক জামাল উদ্দীনের সমন্বয়ে প্রস্তুত করা অভিযোগপত্রে বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ৪০ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট জমা দেন। বর্তমানে ঢাকার আদালতে সুমাইয়া ও রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে এবং আসামি দুজনই কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চলতি মাসের শেষেই মামলাটির পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে বলে বিচারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more