প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ৫:৪৯ এ.এম
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক তত্পরতা জোরদার হয়েছে। ভারতকে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টির পাশাপাশি সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সমাধানের তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই সফরকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দুই প্রতিবেশীর সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের আলোচনার টেবিলে বাণিজ্য, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সফরের প্রস্তুতির পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যর্পণ এবং ভারত থেকে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নিয়ে ঢাকার তৈরি হওয়া অসন্তোষের বিষয়টিতে দিল্লির কাছ থেকে জোরালো নিশ্চয়তা চায় বাংলাদেশ। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সফরটি না-ও হতে পারে—এমন বার্তা ইতিমধ্যেই ভারতকে দেওয়া হয়েছে।
এই সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বার্তা নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সম্প্রতি দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা শেষ করে ঢাকায় ফিরেছেন। দিল্লি সফর শেষে আজ শনিবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে, যেখানে দুই দেশের মধ্যকার সংবেদনশীল বিষয় ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এদিকে, ভারতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে দেশটির গণমাধ্যমেও চর্চা চলছে। তবে এ বিষয়ে কৌশলগত সতর্ক অবস্থান দেখাচ্ছে ভারত সরকার। ভারতের লোকসভা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তারেক রহমানের সফর বা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসংক্রান্ত প্রশ্নের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সব মিলিয়ে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও ভৌগোলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও শেখ হাসিনা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের ওপরই নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের চূড়ান্ত রূপরেখা।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more