তেঁতুলিয়ায় বিলীন শহর রক্ষা বাঁধ, ভিটে-কবর সরাচ্ছে মানুষ
Date: 2026-09-10
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ৩:০০ পি.এম
তেঁতুলিয়ায় বিলীন শহর রক্ষা বাঁধ, ভিটে-কবর সরাচ্ছে মানুষ
অ-অ+
পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে শহর রক্ষা বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল স্রোতে ইতোমধ্যে বাঁধসংলগ্ন সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে গত মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ফেলা জিওব্যাগও স্রোতের টানে নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে হাজিরহাটজ বাজার, জামে মসজিদ, সড়ক ও আশপাশের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ পূর্বপুরুষদের কবরস্থানও অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এতে নদীতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়া নদীর তীরে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে শহর রক্ষা বাঁধের সড়কের একটি অংশ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে গত মাসে লঞ্চঘাটসংলগ্ন একটি মসজিদ ও সড়ক রক্ষায় পাউবো কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে জিওব্যাগ ফেলে। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোতে সেগুলোও টিকতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে পানির চাপ বাড়ায় ভাঙন শুরু হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও প্রবল স্রোতের কারণে সেগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পূর্ণিমার জোয়ারে রাতে ভাঙন আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ভাঙনের মুখে থাকা বাসিন্দা নিজামউদ্দিন বলেন, তাঁর ঘরবাড়ি এখন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। নিরাপদ জায়গা না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর পারিবারিক কবরস্থানও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে তাঁর বাবা ও অন্যান্য স্বজনের কবর রয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাজিরহাট জামে মসজিদ, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শহর রক্ষা বাঁধের সড়ক এবং আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
ভাঙনের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন। এর আগে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা।
ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর থেকে কয়েকটি পরিবারকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। নদীভাঙনে যেসব পরিবার বসতভিটা ও জমিজমা হারাবেন, তাঁদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নদীর তীব্র স্রোতে রাতের মধ্যেই সড়কের বাকি সংযোগটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য তাঁদের বলা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more