অনলাইন ডেস্ক:
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও গত দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যার ফলে লালমনিরহাট জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২.১৪ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধির ফলে হাতীবান্ধাসহ বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের কাঁচা সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে, যার কারণে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা ও ভেলা। আকস্মিক এই প্লাবনে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী এবং গৃহপালিত গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ওপর ঘরে পানি ঢোকার পাশাপাশি সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ায় নদীপাড়ের মানুষের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে পানির প্রবল চাপে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও তীরবর্তী উঁচু সড়কগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় টেকসই সংস্কার না করে বর্ষা এলেই জরুরি মেরামতের নামে অর্থ অপচয় করা হয়, যার খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে এই নিম্নাঞ্চলগুলো পুরোপুরি বন্যা কবলিত হয়ে পড়তে পারে।
তথ্য: ইত্তেফাক/ বিডিফেস
মেহেদী হসান