প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ২:৪৮ পি.এম
২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয়
অ-অ+
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরের
পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য
নির্ধারণ করেছে সরকার। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, শেরেবাংলা নগরে
প্রায় ৩১ দশমিক ৫৮ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত
কমপ্লেক্সে ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে মোট নির্মাণ এলাকা হবে প্রায় ৩৩ লাখ ১৬
হাজার বর্গফুট। পরিকল্পনায় থাকছে ১২ তলাবিশিষ্ট ১৪টি ভবন,
তিনটি বেজমেন্ট এবং ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। পাশাপাশি মসজিদ, দুটি বহুমুখী
মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘর নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন ভবনের নকশায় স্থপতি লুই আই কানের মূল
স্থাপত্যভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে তাঁর নকশার হুবহু অনুকরণে
ভবন নির্মাণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নতুন সচিবালয় ঘিরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক
রাখতে ভূগর্ভস্থ সড়ক ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প এলাকার
সড়কব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমের পাশাপাশি
আশপাশের এলাকার যান চলাচলও সচল থাকে। এ ছাড়া প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায়
সবুজায়ন ও জলাধারের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পার্কিংয়ের ২০০টি স্থান থাকবে
ভূ-উপরিভাগে; বাকি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা কীভাবে বিন্যস্ত হবে, তা প্রকল্পের বিস্তারিত
নকশায় নির্ধারিত হবে। নতুন সচিবালয় নির্মাণে অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ
সরকার। তবে প্রকল্পটির মোট ব্যয় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ জন্য প্রাক্কলন তৈরির কাজ
চলছে বলে জানান নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, নতুন সচিবালয়ের মূল ধারণাগত নকশা
অনুমোদিত হয়েছে। তবে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন, স্থাপত্য এবং কাঠামোগত
প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের বিস্তারিত নকশা এখনো প্রস্তুত করা বাকি। সরকারের কাজের গতি বাড়াতে সমন্বিত প্রশাসনিক
অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী
চান সরকারের বিভিন্ন অংশ যেন আরও সমন্বিতভাবে দ্রুত কাজ করতে পারে। বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়
স্থানান্তরের পর ওই এলাকার জমি ও ভবন কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকায় প্রশাসনিক
কার্যক্রম ও আদালত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের জন্য জায়গার প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে পুরোনো
সচিবালয় এলাকায় এসব কার্যক্রমের কিছু স্থানান্তরের বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী,
বর্তমান সচিবালয় ১৭ দশমিক ৫৭ একর জমির ওপর অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে, যার
আটটি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরোনো
১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবন ১৯৪৭ সালে নির্মিত
হয়। এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীলতার আধুনিক মানদ- অনুসারে নির্মিত নয় বলে গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি কার্যক্রম পরিচালনায় ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমান সচিবালয়ে অফিসের মোট আয়তন প্রায়
১৮ লাখ ৭৬ হাজার বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের
বাইরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একই স্থানে আনতে আরও ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস
স্পেস প্রয়োজন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শেরেবাংলা
নগরে একটি বৃহৎ প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে উঠবে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, বিস্তারিত প্রকৌশল
নকশা এবং নির্মাণকাজের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পরই এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট
ধারণা পাওয়া যাবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more