চট্টগ্রামে সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায়
অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ২:১২ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ২:১২ পি.এম
চট্টগ্রামে সাংবাদিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা আদায়
অ-অ+
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে সাংবাদিককে অস্ত্রের
মুখে জিম্মি করে মারধর, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা
মামলায় সৈকত (২৪) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় দায়ের
করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে হালিশহর এলাকায়
নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার সৈকত মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর
আসামি। ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল হোসাইন দৈনিক পূর্বদেশের স্টাফ রিপোর্টার। হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, সাংবাদিককে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে দায়ের
করা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এজাহারভুক্ত আরও একজনকে গ্রেফতার করা
হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে জিম্মি হওয়ার অভিযোগ মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হালিশহর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের রমনা আবাসিক এলাকার ২ নম্বর
সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান সাংবাদিক আবুল হোসাইন। এ সময় সৈকতসহ এজাহারভুক্ত কয়েকজন আসামি এবং
অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন তাকে ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মিথ্যা অভিযোগ
তুলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পিস্তল ও ছুরির ভয় দেখিয়ে পাশের একটি নির্জন স্থানে
নিয়ে তাকে জিম্মি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। নগদ টাকা ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ নেওয়ার
অভিযোগ এজাহার অনুযায়ী, জিম্মি অবস্থায় সাংবাদিকের
কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ
দাবি করেন অভিযুক্তরা। দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার
মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিভিন্ন
লেনদেনের মাধ্যমে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে সাংবাদিকের কাছ থেকে ৭০ হাজার
৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। জোর করে স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, টাকা নেওয়ার
পর সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়ার আগে সামাজিকভাবে হেয় করা ও ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক
একটি মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করা হয়। এ ঘটনা কাউকে জানালে কিংবা পুলিশের কাছে
অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর হালিশহর থানায় মামলা করেন তিনি। আগে গ্রেফতার দুই আসামি পুলিশ জানায়, এ মামলায় এর আগে এজাহারভুক্ত
আট নম্বর আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৬) এবং ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়। সর্বশেষ
গ্রেফতার করা হয়েছে পাঁচ নম্বর আসামি সৈকতকে। মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন মো.
সাইফুল প্রকাশ ভেড়া সাইফুল, বাইট্টা বাবুল, মিজান, অনিক, মহিত ও রবিন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা
আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক
(এসআই) মো. মঞ্জু জানান, রোববার বিকেলে সৈকতকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার পাশাপাশি লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়টিও গুরুত্ব
দিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক আবুল হোসাইন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব
পালন করতে গিয়ে তাকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি
এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার, লুট হওয়া টাকা উদ্ধার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি
জানিয়েছেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more