বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়
পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে এক মধ্যবয়সী নারী নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মারধরের একপর্যায়ে
তার প্রসব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ইন্দ্রকুল
গ্রামের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহত নার্গিস বেগম (৪০) একই
গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারের স্ত্রী। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে স্থানীয়রা তাকে অচেতন
অবস্থায় উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে
জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে নার্গিস বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ধার নেন একই গ্রামের
সোবহান হাওলাদারের ছেলে আতিক। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় রোববার
রাতে তিনি পাশের একটি চায়ের দোকানে গেলে সেখানে আতিক এসে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ
রয়েছে। ভুক্তভোগী নার্গিস বেগম
জানান, পরিচিত হওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য টাকা ধার দিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে আতিক
নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। ঘটনার দিন রাতে দোকানে গেলে আতিকের আত্মীয় লোকমান হাওলাদার
তাকে ফোনে ডেকে আনেন। পরে আতিক এসে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে আছড়ে ফেলে
বুকের ওপর পা দিয়ে লাথি মারলে তার প্রসব হয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এরপরও হামলাকারী
থামেনি এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য
ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ জানান, আহত নারীর শরীরে একাধিক আঘাতের
চিহ্ন রয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত
আতিক হাওলাদার বলেন, আমি টাকার ঘটনায় আপোষ করতে চেয়েছি। তাকে কোন মারধর করা হয়নি। তবে
ওই মহিলাকে এলাকার মানুষ চরিত্রহীন হিসাবে জানে। বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে
তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more