বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজ লুটপাটের আশঙ্কায় তরমুজ ক্ষেতে দাঁড়িয়ে
মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। পুলিশ, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা এবং স্থানীয়
একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধ দখল ও তরমুজ লুটপাটের আশঙ্কা প্রকাশ করে এ মানববন্ধন
কর্মসূচি পালন করা হয়। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর পূর্বপাড়ের
চন্দ্রদ্বীপ প্রান্তের ৭৫ নম্বর জেএল-এর কচুয়া মৌজায় তরমুজ ক্ষেতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
হয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, নদী সিকস্তি এলাকায় অবস্থিত
৭৫ নম্বর জেএল-এর কচুয়া মৌজার ১২০১ নম্বর দাগের জমি নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। বাউফল
সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা দেওয়ানি মামলা নং-১১/২০০১ (আদেশ নং-৪৪, তারিখ ১১/০৫/২০২৫)
অনুযায়ী জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে সরকার দখল স্বত্ব ও রাজস্ব
আদায়ের স্বার্থে ওই মৌজার প্রায় ১২০ একর জমি কৃষকদের চাষাবাদের জন্য অনুমতি দেয়। কৃষকদের দাবি, বন্দোবস্ত ও রেকর্ডিয় মালিকানায় বিভিন্ন জটিলতার
কারণে পরবর্তী দিযারা জরিপ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত জমির মালিকানা নির্ধারণ হয়নি। এ
অবস্থায় জমির একটি অংশ স্থানীয় ভোগদখলকারীদের এবং অবশিষ্ট অংশ একসনা চাষের অনুমতিপ্রাপ্তদের
মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হচ্ছে। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার,
কানুনগো, এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলার কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির মদদে স্থানীয়
একটি চক্র অবৈধভাবে জমি দখল ও তরমুজ লুটপাটের চেষ্টা করছে। তারা অভিযোগ করে বলেন, মজিবর
মোল্লা, আ. খালেক মুন্সি, রাজ্জাক মুন্সি, জামাল মাঝি, শামিম প্যাদা, সাইফুল মোল্লা,
মানিক ও বাদল সরদারসহ কয়েকজন ব্যক্তি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার উদ্দিন খান বলেন,
“এই জমি ৭৫ নম্বর জেএল-এর কচুয়া মৌজার। এটি চন্দ্রদ্বীপের জমি নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমরা
এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। সাবেক দুইজন সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় সরকারি জমি সমন্বয়ের
মাধ্যমে আমরা ব্যবহার করে আসছিলাম। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জমি থেকে
উৎখাতের চেষ্টা করা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা মো. অলিউল্লাহ বলেন, “নদী ভাঙনে আমাদের অনেক জমি
হারিয়ে গেছে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই জমি আমরা ভোগদখল করছি। সরকারি রাজস্ব দিয়ে ১২০ একর
জমি লিজ নেওয়ার পর একটি সন্ত্রাসী চক্র আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং তরমুজ লুটপাটের
পায়তারা করছে।” এদিকে বিরোধপূর্ণ জমিতে তরমুজ চাষ করা ভোলা জেলার নুরাবাদ এলাকার
চাষি মো. নিজাম বলেন, “জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আমরা
এক পক্ষকে টাকা দিয়েছি, এখন অন্য পক্ষও টাকা দাবি করছে। দুই পক্ষের সমন্বয় না হলে চাষিরা
ক্ষতির মুখে পড়বে।” মানববন্ধনে নাজিরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনছার
উদ্দিন খান, আসাদুল প্যাদা, অলিউল মুন্সিসহ স্থানীয়রা বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু বলেন, “সর্বশেষ
জরিপের নাম প্রকাশ অপেক্ষমান রয়েছে। নাম প্রকাশের পর এই জমির মালিকানা নিয়ে আর কেউ
দাবি করতে পারবে না।”
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more