বাউফলে ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৬ মেগাওয়াট
Date: 2026-09-28
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১১:২৭ এ.এম
বাউফলে ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ৬ মেগাওয়াট
অ-অ+
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপক কমে যাওয়ায় ঘন ঘন রোটেশনাল লোডশেডিং চলছে। দিন-রাত মিলিয়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার পর সরবরাহ চালু হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত লোডশেডিংয়ের সময়সূচি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও দুর্ভোগপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। কম্পিউটার ও অনলাইনভিত্তিক কাজ, দোকানপাট, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান বন্ধ হয়ে প্রচণ্ড গরমে ঘুমাতেও কষ্ট হচ্ছে অনেকের। পানির পাম্প চালানো, মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজেও দেখা দিয়েছে সমস্যা।
বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভুক্তভোগী গ্রাহক ওহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু ও বয়স্কদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক সময় নামাজের আজানের সময়ও হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অথচ গ্রাহকদের নিয়মিত মিটার ভাড়া, সার্ভিস চার্জ ও বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে।”
নওমালা ইউনিয়নের সংবাদকর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, “দিন-রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের কাজ ব্যাহত হয়। সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের সময়সূচি সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।”
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদন কার্যক্রমেও। বাউফল উপজেলার খুলনা বেকারি কারখানার মালিক সোনালী মুন্সী জানান, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে তাঁর কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগে কারখানায় ১৬ জন কর্মচারী কাজ করলেও বর্তমানে মাত্র ছয়জন কর্মরত আছেন। নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাউফল জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, “বাউফলে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে রোটেশনাল লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি থাকলেও লোডশেডিং ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটি দ্রুত মেরামত, পুরোনো লাইন ও যন্ত্রপাতি সংস্কার এবং সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
তাদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সংকট শুধু জনজীবনেই নয়, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে। তাই বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ জরুরি।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more