নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট: ইসরায়েলের 'কালো তালিকায়' বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশ
Date: 2026-09-28
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ৪:৪৮ এ.এম
নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট: ইসরায়েলের 'কালো তালিকায়' বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক ও উত্তেজনা। ভাষণ শুরুর প্রাক্কালে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা একযোগে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওয়াকআউটকারী ৭৭টি দেশের নাম লিখে একটি পৃথক ‘কালো তালিকা’ তৈরি করেছে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতিসংঘের মূল মঞ্চে নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে ওঠার সাথে সাথেই গ্যালারি ও কূটনৈতিক সারিগুলো খালি হতে শুরু করে। প্রতিবাদী প্রতিনিধিদের নীরব মিছিলের মধ্য দিয়েই এক ইসরায়েলি কূটনীতিককে হাতে থাকা কাগজে ওয়াকআউট করা দেশগুলোর নাম তালিকাভুক্ত করতে দেখা যায়।
ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ, তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, স্পেন ও আয়ারল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো। তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, প্রতিবাদকারীদের এই বৈচিত্র্য প্রমাণ করে যে, গাজা আগ্রাসন ও ইসরায়েলি নীতির বিরুদ্ধে এ প্রতিবাদ কেবল মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক নয়; বরং এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে অধিবেশন কক্ষে বক্তব্য শুরু করেই ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহু হল ছেড়ে যাওয়া বিশ্বনেতা ও কূটনীতিকদের কড়া সমালোচনা করেন। ওয়াকআউটকারী প্রতিনিধিদের "নৈতিক কাপুরুষ" হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, যাদের সত্য শোনার সাহস বা মানসিকতা নেই, তাদের এখনই কক্ষ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। একই সাথে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা ঘটায়নি, বরং তা প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি ভাষণে নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানির ভূমিকারও কড়া সমালোচনা করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তাকে বাকরুদ্ধ বা প্রতিহত করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কটকারী দেশগুলোর কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ব-নির্ধারিত অনুপস্থিতি এবং সরাসরি ওয়াকআউটের সূক্ষ্ম পার্থক্যের কারণে হিসাবের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। তবুও বিশ্বমঞ্চে বিশ্বনেতাদের এই গণ-ওয়াকআউট এবং তার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের পৃথক তালিকা তৈরির ঘটনাটি ভবিষ্যতে বয়কটকারী দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more