ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬
অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৩:৪১ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৩:৪১ পি.এম
ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৬
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে
বাসায় ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মারধর এবং ১০ লাখ টাকা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায়
ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্য, আনসারের একজন সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে তাঁদের
গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ।
মামলার আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে ঢাকা মহানগর হাকিম আশরাফুল হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর
আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট
আল মামুন (৩৯), একই সংস্থার ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা
(৩২), একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা
উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার জিয়াউল ইসলাম (৩৫)। এ ছাড়া সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামে আরও
দুজনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী
মো. শরীফ এ ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পাশাপাশি বাসায় থাকার সুবাদে
আনসার সদস্য সোহেল রানার সঙ্গে শরীফের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে সোহেল
রানা শরীফকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে সোনিয়া নামে এক নারীকে
নিজের বোন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি। পরে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে সোহেল ঘর থেকে
বেরিয়ে যান। এজাহারে শরীফ অভিযোগ করেন, কিছুক্ষণ পর অন্য আসামিরা ওই
বাসায় এসে তাঁকে মারধর করেন এবং ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থলেই
তাঁদের ৭০ হাজার টাকা দেন। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন
শরীফ। এ সময় তাঁকে ওই বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভোর ৩টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা
শরীফকে বাসা থেকে নামিয়ে একটি টয়োটা গাড়িতে তোলেন। পরে গাড়িটি শেরেবাংলা নগরে শিশু
হাসপাতালের বিপরীত পাশে রাখা হয়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা চা পান করতে নামলে শরীফ
পুলিশের একটি টহল গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি দৌড়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সহায়তা চান। শেরেবাংলা
নগর থানার টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে ছয়জনকে আটক করে। পরে তাঁদের মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর
করা হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল
ইসলাম বলেন, শিশু হাসপাতালের কাছে তাঁদের চেকপোস্ট ছিল। সেখানে ওই ব্যবসায়ী পুলিশের
সহায়তা চাইলে তাঁরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত
হওয়ার পর ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে গাড়িসহ মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর ডিজিএফ
আইয়ের দুই
সদস্যের বিষয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেনাসদর থেকে কর্মকর্তারা থানায় এসে বিষয়টি যাচাই
করেন। এরপর তাঁদেরও মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে
বক্তব্য দিতে চাননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা এজাহারের ভিত্তিতে
ঘটনার বিবরণ দেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more