সেন্ট মার্টিনে দৈনিক যেতে পারবেন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক
অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম
সেন্ট মার্টিনে দৈনিক যেতে পারবেন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক
অ-অ+
বিশেষ প্রতিনিধি: সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটন মৌসুমের মেয়াদ ৪৫ দিন বাড়িয়ে
সাড়ে চার মাস নির্ধারণ করেছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত
দ্বীপটিতে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০
পর্যটক যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পর্যটকপ্রতি পরিবেশ সংরক্ষণ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০
টাকা।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমানের পাঠানো চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের
কথা জানানো হয়। এর আগে গত মৌসুমে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের
সুযোগ ছিল এবং দৈনিক পর্যটকসংখ্যার সীমা ছিল ২ হাজার।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া
ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করবে। এ রুটে জাহাজ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ
অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে সংশ্লিষ্ট নৌযান মালিকদের।
অনলাইন টিকিট ও ভ্রমণ পাস বাধ্যতামূলক- সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের
অনুমোদিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। টিকিটের সঙ্গে ট্রাভেল পাস
ও কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। পর্যটকের
সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে দ্বীপে শুধু দিনের
বেলায় ভ্রমণ করা যাবে। এ সময় পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে না। পরবর্তী সময়ে
রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় বহাল থাকছে বিধিনিষেধ- দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আগের বিধিনিষেধগুলোও
কার্যকর থাকবে। রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি ও বারবিকিউ পার্টি আয়োজন
করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রির পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম,
পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যরে ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত
যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পলিথিন বহন এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্য
ব্যবহার থেকেও পর্যটকদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে নিজস্ব
পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
মৌসুমে পরিবেশ ফি আদায় হতে পারে প্রায় ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা-
নির্ধারিত ১৩৫ দিনের পুরো মৌসুমে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩
হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে গেলে মোট পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ জনে।
প্রত্যেক পর্যটকের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায় করা হলে সম্ভাব্য
মোট আদায়ের পরিমাণ হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল
আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more