অনলাইন ডেস্ক:
দেশের পর্যটন খাতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এ ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জনপ্রিয় ভ্রমণপ্রেমী সালাহউদ্দীন সুমন (আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন সুমন)। সরকারিভাবে পরিচালিত বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড কর্তৃক ঘোষিত এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জনকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক ও আনন্দের বিষয় হিসেবে দেখছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সালাহউদ্দীন সুমন জানান, ক্যারিয়ারে আগে কখনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মাননা না পাওয়ায় এই পুরস্কারটি তার কাছে বেশ বিশেষ। তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের নানা ঘাটতি নিয়ে অতীতে তিনি সোচ্চার ও সমালোচনামূলক ভূমিকা রাখলেও তার কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন করায় তিনি পর্যটন বোর্ডের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ। পর্যটন খাতের টেকসই মানোন্নয়ন, ডিজিটাল উদ্ভাবন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার অনন্য প্রচেষ্টাকে মূল্যায়নে এনে একটি বিশেষজ্ঞ জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তাকে এই সম্মাননার জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
সালাহউদ্দীন সুমনের আজকের এই বর্ণাঢ্য পথচলার নেপথ্যে ছিল দীর্ঘ সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার সময় থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ঢাকায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০২১ সালে তিনি পূর্ণকালীন চাকরি ছাড়েন। নিজস্ব কনটেন্ট তৈরির পেছনে পূর্বের চিত্রনাট্য রচনা, ধারণ ও সম্পাদনার দক্ষতা তাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়। বর্তমানে ইউটিউবে ৩৩ লাখের বেশি সাবস্ক্রাইবার ও ফেসবুকে ৪৯ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে তার।
ইতিহাস ও ভ্রমণকে চমৎকারভাবে ফিউশন করে তৈরি করা তার ভিডিওগুলো দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও কুষ্টিয়ায় মীর জাফরের বংশধরদের সন্ধান নিয়ে করা তথ্যচিত্রটি তার ডিজিটাল ভিউয়ারশিপের বড় বাঁক বদল ঘটায়। ভ্রমণের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি ‘কথাচিত্র কমিউনিকেশন’ নামে নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস গড়ে তুলছেন এবং নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য ‘সালাহউদ্দীন সুমন একাডেমি’র মাধ্যমে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করছেন। নতুনদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো—বাইরের আলোড়ন দেখে নয়, বরং নিজের আগ্রহ ও প্রকৃত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে সফলতা আসবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুমন ছাড়াও দেশের শ্রেষ্ঠ তারকা হোটেল, ইনবাউন্ড ও ডোমেস্টিক ট্যুর অপারেটরসহ মোট ১৬টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তথ্য: জাগোনিউজ / বিডিফেস