প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৮, ২০২৬, ১০:৫৫ এ.এম
চলতি বছরই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
দীর্ঘ প্রায় দুই বছর যাবত দেশের বাইরে অবস্থানের পর সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, আইনি জটিলতা এবং ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে (NDTV) দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।
নির্বাসিত জীবনে থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেন, স্বদেশে ফিরে আসা তার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষমতার লোভ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আবার জাগ্রত করার লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরছেন। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যকে বুকে ধারণ করেই আমার এই অবিরাম সংগ্রাম।” নিজের জীবন সংশয়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান যে তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস ট্র্যাজেডি এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ সময় পার করে আসার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, অতীতে যেমন প্রতিটি সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবারও ঠিক তেমনিভাবে সব বাধা চূর্ণ করে নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন। দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে বা দুর্বল সংগঠন নয়। ৭৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ এই দলটির শিকড় বাংলার মাটি ও মানুষের জাতীয় পরিচয়ের সাথে গভীরভাবে মিশে আছে। দলটির রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো নির্দিষ্ট সরকারের দয়া বা করুণার ওপর নির্ভর করে না। অতীতেও নানা সংকটের মুখোমুখি হয়ে জনগণের শক্তিতে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল দলটির পুনর্জাগরণের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। ৫ আগস্টের পর দেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, 'জয় বাংলা' স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা মূলত বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা। বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কোনো ধরণের গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া বা অনুকম্পা প্রত্যাশা করে না। গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির হাতিয়ার হতে পারে না, এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।” ভারতে অবস্থান করলেও তার মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, জাতির পিতার সমাধি এবং দেশের মানুষের কথা ভেবে তিনি প্রতিটা মুহূর্ত অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছেন। দেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তির ওপর ভর করেই ঘুরে দাঁড়াবে—এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত তার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more