ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের আলটিমেটাম ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের
Date: 2026-07-31
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১:৪৩ পি.এম
ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের আলটিমেটাম ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
অর্থের বিনিময়ে ফিফা ফুটবল ঐতিহ্য ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্বকাপ ‘বিক্রি করে দিচ্ছে’—এমন গুরুতর অভিযোগে ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপসহ সমস্ত টুর্নামেন্ট পুরোপুরি বর্জনের আনুষ্ঠানিক হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাসমূহের এমন নজিরবিহীন মুখোমুখি অবস্থানে অচল হয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সামগ্রিক কাঠামো।
সংকটের মূলে রয়েছে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত উদ্যোগ। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (FFE) নামে নতুন একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়, যার প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার। এই প্রতিষ্ঠানের একাংশের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার তোলার পরিকল্পনা করছে ফিফা, যেখানে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান 'থ্রাইভ ক্যাপিটাল'-এর মতো নামও যুক্ত রয়েছে। ফিফার দাবি, ২১১টি সদস্য দেশের অনুমোদন পেলে এই বিশাল তহবিল দিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন বাজেট ৩ গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে এবং প্রতিটি দেশ অবকাঠামো ও নারী ফুটবলের উন্নয়নে এককালীন ২ কোটি ডলার পর্যন্ত বরাদ্দ পাবে।
তবে ফিফার প্রস্তাবিত এই চরম বাণিজ্যিক মডেলকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফা। উয়েফা নিয়ন্ত্রিত ৫৫টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের এক জরুরি বৈঠকে প্রায় ৫০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—ফিফা এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত ইউরোপের কোনো দেশ ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। ইতোমধ্যেই উয়েফার এই কঠোর অবস্থানের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ (CONCACAF)-ও।
উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপ কোনো সাধারণ বিনিয়োগপণ্য নয় এবং এটি কোনোভাবেই বিক্রির জন্য নয়। গণতান্ত্রিক আলোচনা এড়িয়ে গোপনীয়তার সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন তিনি। উয়েফার এই অনড় সিদ্ধান্তের ফলে স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মতো ফুটবল পরাশক্তিগুলো এখন ফিফার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
যদি দুই পক্ষের মধ্যে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের পুরো সূচিই ধসে পড়তে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য নারী ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০৩০ সালের পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপসহ বিচ সকার ও ফুটসালের যাবতীয় বৈশ্বিক আয়োজন হুমকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে এসব অভিযোগকে মিডিয়ার অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে ফিফা। সংস্থাটির দাবি, কেউ বিশ্ব ফুটবল বিক্রি করছে না, বরং ২১১টি দেশের গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে এবং কোনো একক আঞ্চলিক সংস্থার দাবিতে এই যুগান্তকারী পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসা হবে না। ক্ষমতার এই টানাটানিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর ক্রীড়াবিশ্বের।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more