গাজায় সামরিক অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলে বিপুল অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত
Date: 2026-07-31
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ৩১, ২০২৬, ১:২৪ পি.এম
গাজায় সামরিক অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলে বিপুল অস্ত্র পাঠিয়েছে ভারত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
গাজা উপত্যকায় সাধারণ ফিলিস্তিনিদের ওপর রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান ও সম্ভাব্য জাতিগত নিধনের ঝুঁকির মধ্যেই ইসরায়েলে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত ৪২ পৃষ্ঠার এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামুনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে অন্তত ২ হাজার ৫ ৯৬টি চালানে এসব সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে। গাজায় মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারত সরকার এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এই লাভজনক প্রতিরক্ষা বাণিজ্য অব্যাহত রাখে।
অ্যামনেস্টির তথ্যানুযায়ী, এই সময়কালে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি সামরিক মানের ছোট অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ড্রোনের ওয়ারহেড ও আর্টিলারি শেলের খোলসহ ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক উপাদান এবং ২৯৮টি সামরিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব চালানের একটি বড় অংশ গ্রহণ করেছে ইসরায়েলের প্রধান তিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার—এলবিট সিস্টেমস, ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে আদেশ দেওয়ার পরও ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা-ধ্বংসযজ্ঞের সময়েও ভারতীয় কোম্পানিগুলো অস্ত্র বিক্রি করে মুনাফা লুটেছে। প্রতিবেদনে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি নীতিতে মারাত্মক কাঠামোগত দুর্বলতা ও অস্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে বলা হয়, দেশটি আন্তর্জাতিক 'অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তি' (এটিটি)-তে স্বাক্ষর না করায় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতাও এড়িয়ে গেছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more