অনলাইন ডেক্স: দেশে জ্বালানিসংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন
ব্যাহত হওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। রাজধানীতে পরিস্থিতি তুলনামূলক
সহনীয় থাকলেও গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটছে,
যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ
লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। দিনের পাশাপাশি
রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিড
পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গার্ড বাংলাদেশ পিএলসি -এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা
ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার মেগাওয়াটের
বেশি, কিন্তু সরবরাহ ছিল তার চেয়ে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট কম। তবে বাংলাদেশ পাওয়ার
ডেভেলপমেন্ট এর কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, কয়লার সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কয়লাভিত্তিক
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরছে। ইতোমধ্যে রামপাল ও এসএস পাওয়ার
প্লান্ট থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবুও সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে
বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী মাসে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে
যেতে পারে। পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে লোডশেডিং আরও বাড়বে বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। বর্তমান সংকট শুধু বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ
নয়; এটি শিল্প, কৃষি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ
না থাকায় সেচব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বোরো ধানের উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি
মাছের হ্যাচারিগুলোতেও উৎপাদন কমে গেছে। শিল্প খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে
না, ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের
সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেডন্ট পাওয়ার প্রোডিউচার এ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন
সক্ষমতার বড় অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে। দেশজুড়ে বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, ঝিনাইদহসহ
বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত
বিদ্যুৎ থাকছে না, যা জনজীবনকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ
স্বাভাবিক না হলে এবং বকেয়া বিল পরিশোধে অগ্রগতি না এলে গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি
আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের
জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more