ইসলামী শিক্ষায় ‘শয়তান’কে এক অদৃশ্য কিন্তু
প্রভাবশালী অপশক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা মানুষকে ধাপে ধাপে বিভ্রান্তি ও পাপের
দিকে ঠেলে দেয়। আরবি শব্দ ‘শাতানুন’ থেকে ‘শয়তান’ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ দূরে সরে
যাওয়া বা বিচ্যুত হওয়া-অর্থাৎ সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত করাই এর প্রধান কাজ। পবিত্র কুরআন-এ শয়তানকে মানুষের প্রকাশ্য
শত্রু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শয়তান মূলত জিন জাতির অন্তর্ভুক্ত
এবং ‘ইবলিস’ তারই একটি পরিচিত নাম। বিভিন্ন আয়াতে শয়তানের কুমন্ত্রণার বিষয়টি তুলে
ধরে মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে, যাতে তারা তার প্ররোচনায় পথভ্রষ্ট না হয়। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, শয়তানের প্রধান
কাজ হলো মানুষের অন্তরে সন্দেহ, ভয় এবং কুপ্রবৃত্তি সৃষ্টি করা। কখনো দারিদ্র্যের ভয়
দেখিয়ে, কখনো ক্ষমতাবানদের আতঙ্ক তৈরি করে, আবার কখনো পাপকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরে
সে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে। হাদিসেও শয়তানের প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক
করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শয়তান মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহের মতোই সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ
করে কুমন্ত্রণা দেয়। ফলে একজন মানুষের ঈমান দুর্বল হলে সে সহজেই শয়তানের প্রভাবে বিপথগামী
হতে পারে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, শয়তানের অপকৌশল
ধাপে ধাপে কাজ করে। প্রথমে মানুষকে শিরক বা কুফরের দিকে আহ্বান করে, এরপর বড় গুনাহ,
তারপর ছোট গুনাহ—এভাবে ধীরে ধীরে মানুষকে নৈতিক পতনের দিকে নিয়ে যায়। এমনকি কখনো বৈধ
কাজেও অতিরিক্ত ব্যস্ত রেখে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তবে ইসলাম এই অপশক্তি থেকে বাঁচার পথও
দেখিয়েছে। ঈমান, জ্ঞান (ইলম) এবং একনিষ্ঠতা (ইখলাস)কে শয়তানের বিরুদ্ধে প্রধান প্রতিরক্ষা
হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আল্লাহর স্মরণ (জিকর) এবং তাঁর আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে
একজন মুমিন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে নিরাপদ থাকতে পারে। ধর্মীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, ব্যক্তি
ও সমাজজীবনে শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে সচেতনতা, আত্মশুদ্ধি এবং নিয়মিত ইবাদতের
বিকল্প নেই। কারণ শয়তানের কৌশল যত সূক্ষ্মই হোক না কেন, দৃঢ় ঈমান ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা
থাকলে তা প্রতিহত করা সম্ভব।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more