মানিকগঞ্জের ঐতিহাসিক কালীগঙ্গা নদীর বেউথা ঘাটে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে বেউথা ঘাট ও এর আশপাশের এলাকা পরিণত হয় উৎসবের নগরীতে। নদীটির দুই পাড়ে সকাল থেকেই সমবেত হতে থাকেন হাজার হাজার উৎসুক দর্শনার্থী। দুপুরের দিকে পুরো এলাকা যেন জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতিযোগিতা পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে থাকা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আ তা ম জহীর আলম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, গ্রামবাংলার প্রায় হারিয়ে যেতে বসা হাজার বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় শুধু স্বাগতিক মানিকগঞ্জ নয়; টাঙ্গাইল, পাবনা ও কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ২২টি আকর্ষণীয় নৌকা অংশ নেয়। পুরো আয়োজনটিকে চারটি পৃথক ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছিল— যার মধ্যে খেল্লা-গয়ইটা ক্যাটাগরিতে ১০টি, ঘাসি-ছিপা ক্যাটাগরিতে ৫টি, ছান্দি ক্যাটাগরিতে ৪টি এবং পানসি ক্যাটাগরিতে ৩টি নৌকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এছাড়া সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ৭০ ও ৮০ হাত দীর্ঘ বিশালাকার দুটি কলাগাছের ভেলাও এ প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।
নৌকাবাইচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল কুড়িগ্রামের রৌমারী এলাকা থেকে আগত ‘মায়ের দোয়া’ নামের বিশাল খেল্লা নৌকাটি। প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী শাল কাঠের এই নৌকাটি ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে টানা তিন দিনের দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মানিকগঞ্জে পৌঁছায়।
নদীতে সুসজ্জিত নৌকাগুলোর গতি ও মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রতিযোগীদের উৎসাহ দিতে দুই পাড়ে থাকা হাজারো দর্শক উল্লাসে ফেটে পড়েন। মূল বাইচের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বাড়তি আনন্দ দিতে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। প্রথম সারির বিজয়ীদের জন্য মোটরসাইকেল, ইলেকট্রিক বাইক ও ফ্রিজের মতো আকর্ষণীয় উপহারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রতিটি নৌকাকে ঐতিহ্যবাহী পিতলের কাপ এবং ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য টেলিভিশন ও রাইস কুকারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more