মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আওয়ামী নেতার সম্পত্তি জুলাই শহীদদের ফান্ডে অর্পণের নির্দেশ
Date: 2026-09-16
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ৭:৫৪ এ.এম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আওয়ামী নেতার সম্পত্তি জুলাই শহীদদের ফান্ডে অর্পণের নির্দেশ
অ-অ+
স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই রায়ে ওবায়দুল কাদেরসহ পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। মামলায় সাত আসামিকেই পলাতক দেখানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের অধিকাংশই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে বলা হয়েছে, জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে।
রায়ের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে। তবে এই রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই ফাউন্ডেশন বা কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তসহ রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা থাকবে। ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হলে সরকারের পক্ষে রায় বাস্তবায়নে আইনগত বাধা থাকবে না বলে তিনি জানান।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর এ রায় ৫৫৭ পৃষ্ঠার। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয় এবং প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি সপ্তম রায়। এর আগে আরও কয়েকটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং এটিকে প্রত্যাশিত রায় হিসেবে মনে করছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more