মাওয়া প্রান্তে বাস দুর্ঘটনা: পদ্মা সেতুর রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত
Date: 2026-09-01
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬, ৪:৪২ এ.এম
মাওয়া প্রান্তে বাস দুর্ঘটনা: পদ্মা সেতুর রেলিং ক্ষতিগ্রস্ত
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় সেতুর পূর্ব পাশের সুরক্ষা রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি সামলে উঠে সেতু পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। মেরামত বাবদ প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েদ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় বাসটি সেতুর উভয় পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিলেও পশ্চিম অংশে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। মূলত পূর্ব পাশের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটারের মতো অংশ ভেঙে গেছে। এছাড়া সড়কের উপরিভাগে কিছুটা আঁচড় বা দাগ পড়লেও তা গুরুতর নয়। বাসের যাত্রী ও সেতুর মূল অবকাঠামো বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানান তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে মাগুরা থেকে ঢাকাগামী ‘নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেস’ নামের বাসটি অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করে অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে মাওয়া প্রান্তের ঢালে এসে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এসময় বাসটি লম্বালম্বিভাবে পিছলে গিয়ে ডানে-বাঁয়ে আছড়ে পড়ে এবং উভয় পাশের রেলিংয়ে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের ভেতর আটকে থাকা ৮ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা ও উদ্ধারের সুবিধার্থে সেতুর ওপর ৮ থেকে ১০ মিনিট যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে এক পাশ দিয়ে সীমিত পরিসরে যান চলাচল শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল দল এবং রেকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে সেতুতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়। বাসটিকে বর্তমানে পদ্মা উত্তর থানায় আইনগত ব্যবস্থার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) ১৬টি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে বোর্ড টাঙানো রয়েছে। তা সত্ত্বেও অনেক চালক নিয়ম মানছেন না। সিসিটিভি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর গাড়িটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more