১৩ বছর বয়সের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর বিচার ও মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেয়ে সমাজ ও সংবাদমাধ্যমে এক সংবেদনহীন চর্চা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ট্রোলিংয়ের পাশাপাশি দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলোর একটি অংশ মেতে উঠেছে নিহত শিশুর ব্যক্তিগত জীবন, ফেইসবুকের ছবি এবং তার মা-বাবার অভিভাবকত্ব বা ‘প্যারেন্টিং’ ব্যবচ্ছেদ করার প্রতিযোগিতায়। অর্থনৈতিক লাভ ও সামাজিক মাধ্যমের এনগেজমেন্ট পাওয়ার দৌড়ে মূল অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার চেয়ে নিহত কিশোরের ব্যক্তিগত জীবনকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে।
একটি কিশোর হত্যাকাণ্ডের পর পেশাদার সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব ছিল সঠিক তথ্য যাচাই এবং ভিকটিমের প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম নিহত শিশুর ছবি ব্যবহার করে অপ্রাসঙ্গিক ‘প্যারেন্টিং লেসন’ তৈরি করেছে এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চরিত্র বিশ্লেষণ করে ‘ভার্চুয়াল জীবন’ ও ‘অসৎ সঙ্গকে’ মৃত্যুর কারণ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি পরিবারের প্রতি সংবেদনশীল না হয়ে নিহত শিশুর মায়ের বহু আগের ফেইসবুক পোস্টকেও সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে, যা পেশাদার সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও সম্পাদকীয় বিচারবোধের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই ধরনের আপত্তিকর আলোচনার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ভার কৌশলে আড়াল হয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকায় দীর্ঘদিনের কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাদকের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় না দাঁড় করিয়ে বারবার মা-বাবার ‘প্যারেন্টিং’কে দায়ী করা হচ্ছে। একটি ১৩ বছরের শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপনে হয়তো ভুল থাকতে পারে, কিন্তু তার কোনো সিদ্ধান্তই তার নির্মম হত্যাকাণ্ডের কারণ বা ব্যাখ্যা হতে পারে না।
সংবাদমাধ্যম ও সমাজের এই জায়গায় বোঝার সময় এসেছে যে, মুক্ত আলোচনার অর্থ অন্যের শোক, ব্যক্তিগত জীবন ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার সীমাহীন অধিকার নয়। সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব হলো কী ঘটেছে তা নির্মোহভাবে অনুসন্ধান করা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা তুলে ধরা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—কোনো নিহত শিশু বা তার পরিবারের ওপর দায় চাপিয়ে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অপরাধ ঢেকে ফেলা নয়।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more