প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ১১, ২০২৬, ২:৩৫ পি.এম
প্রথমবার উদ্ধার ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেনগান’
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় প্রথমবারের মতো কলমের আদলে তৈরি একটি বিশেষ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ‘পেনগান’ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অস্ত্রটির উৎস ও দেশে প্রবেশের
পথ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া না গেলেও এ
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার দুই ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানান, বাহ্যিকভাবে সাধারণ কলমের মতো দেখালেও এটি কার্যত একটি কার্যকর আগ্নেয়াস্ত্র। আকারে ছোট হওয়ায় সহজে বহন ও গোপন রাখা
সম্ভব, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার
জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম জানান, গত ৩ এপ্রিল
পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় যুবদল নেতা রাসেলের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে ‘পেনগান’-এর সন্ধান পাওয়া
যায়। ওই মামলার সূত্র
ধরে সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সায়মন ও সোহেল ওরফে
কাল্লুকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাসেলকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর দায়ের হওয়া
মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনদের আটক করা হয় এবং পরে
তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ডিবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা দাবি করেছেন যে প্রায় ৮০
হাজার টাকায় তারা অস্ত্রটি সংগ্রহ করেছিলেন। বর্তমানে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে কোনো
সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না। ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মো. নাসিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে এর আগে এ
ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটিতে কোনো প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম বা শনাক্তকারী চিহ্নও
নেই। ফলে এর উৎপত্তি নির্ধারণ
করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রটি প্রতিবেশী কোনো দেশ থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অন্য কোনো এলাকায় একই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও
খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠীর কাছে এ ধরনের অস্ত্র
থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও রাজধানীতে এর উপস্থিতি নতুন
উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ছদ্মবেশী অস্ত্রের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে এবং এর পেছনে থাকা
নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more