রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ
Date: 2026-07-21
প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুলাই ২১, ২০২৬, ৬:১১ এ.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
ট্রেন টিকিট এক্সামিনারের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরে ক্যাম্পাসসংলগ্ন চারুকলা এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এই অবরোধের ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফোরকান উদ্দীন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফেরার পথে যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায় করছিলেন কয়েকজন টিটিই। ফোরকান এর প্রতিবাদ করলে এক টিটিই তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁর দাবি, টিটিই টিকিট চেক করার সময় তিনি তাঁর নিজের টিকিট দেখান, কিন্তু সামনের আসনের দুজনের টিকিট না দেখে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেন টিটিই। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় পেছন থেকে ফোরকানের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর গলা চেপে ধরা হয়, পায়ে আঘাত করা হয় এবং টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এই অবরোধের কারণে ঢাকামুখী ‘বনলতা’ ও ‘সিল্কসিটি এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটি রাজশাহী স্টেশনে আটকা পড়ে আছে বলে নিশ্চিত করেছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধের কারণে ট্রেন দুটি ছাড়া সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি: ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চারটি প্রধান দাবি পেশ করেছেন। দাবিগুলো হলো— ১. অভিযুক্ত টিটিইকে সশরীর উপস্থিত করা। ২. ঘুষ গ্রহণের অপরাধে অভিযুক্তকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। ৩. রেলে যাত্রীর ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, "রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। যথাযথ সমাধান না আসা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকবে।"
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে আলোচনা ক্যাম্পাসে হবে নাকি রেলস্টেশনে হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more