প্রিন্ট এর তারিখ: ||প্রকাশের তারিখ: জুন ২৮, ২০২৬, ১০:৪৪ এ.এম
সাবেক ডিএমপি কমিশনার সহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
অ-অ+
অনলাইন ডেস্ক:
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে নৃশংসভাবে গুলি ও দু'জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে বিশদ প্রকাশ না করা হলেও আদালত তাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামির মধ্যে একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড (যাবজ্জীবন) এবং অন্যজনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র ও আত্মরক্ষার্থে ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণের ওপর যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, তা চরম নিষ্ঠুরতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর এই ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। রামপুরার এই নৃশংস ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ আদালত এই রায় প্রদান করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ও ট্রাইব্যুনালের নিয়ম অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience.
learn more